Aaj India Desk, কলকাতা : ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশ (Infiltration) ইস্যু নতুন করে রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। সীমান্ত, জনসংখ্যার ভারসাম্য এবং ভোটার তালিকা সব মিলিয়ে তীব্র বাকযুদ্ধ চলছে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে। কিন্তু এই রাজনৈতিক লড়াইয়ের মাঝেই আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের মন্তব্যে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে অনুপ্রবেশ (Infiltration) ইস্যুকে বিজেপি জাতীয় নিরাপত্তা ও জনসংখ্যার ভারসাম্যের প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরে ভোটের প্রধান ইস্যু হিসেবে কায়েম করেছে। এই প্রেক্ষাপটেই সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে মোহন ভাগবত মন্তব্য করেন, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের যেন কোথাও কাজ বা জীবিকার সুযোগ না দেওয়া হয়। অর্থাৎ অনুপ্রবেশকারীদের ভাতে মারার পরামর্শ দিয়েছেন আরএসএস প্রধান। এর আগে মালদার সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দাবি করেছিলেন, অনুপ্রবেশ জেলার জনসংখ্যার গঠনে প্রভাব ফেলছে এবং সামাজিক অস্থিরতা বাড়াচ্ছে। একইভাবে অমিত শাহ অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকার ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে অনুপ্রবেশে মদত দিচ্ছে।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের বক্তব্য অনুযায়ী, অনুপ্রবেশের নাম করে ‘Special Intensive Revision (SIR)’ প্রক্রিয়ায় বহু বৈধ নাগরিকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। তারা এই ঘটনাকে গণতান্ত্রিক অধিকারের উপর আঘাত হিসেবে তুলে ধরছে।
তবে এই ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যেও উঠে আসছে মানবিকতার প্রশ্ন। রাজনৈতিক মহলের মতে, অনুপ্রবেশ একটি প্রশাসনিক ও আইনি সমস্যা হলেও তার সমাধান এমন হওয়া উচিত নয় যা মানবিকতার সীমা ছাড়িয়ে যায়। খাদ্য বা জীবিকা থেকে বঞ্চিত করা মানে পরোক্ষে জীবননাশের পরিস্থিতি তৈরি করা। জননেতা হয়ে মানুষের উন্নয়নের কথা বলার পর এই ধরনের বক্তব্য স্বাভাবিকভাবেই নেতার মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, অনুপ্রবেশ (Infiltration) সমস্যা থাকলে তার সমাধান হওয়া উচিত আইনি ও সাংবিধানিক পথে। কিন্তু এমন মন্তব্য, যা সরাসরি বা পরোক্ষে মানুষের বেঁচে থাকার অধিকারকে প্রশ্নের মুখে ফেলে, তা গণতান্ত্রিক সমাজে কতটা গ্রহণযোগ্য সেই প্রশ্ন এখন ভোটের আগেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।


