Aaj lndia Desk, হুগলি: হুগলির আরামবাগে ভোট প্রচারের সময় তৃণমূল প্রার্থী মিতা বাগ (Mita Bag)-কে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং কর্মসংস্থান নিয়ে উত্তপ্ত মঞ্চে গ্রামবাসীর ক্ষোভ প্রকাশ খোলা খুলিভাবে সামনে এসেছে। বিরোধীরা শাসকদলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন, “বাংলায় কর্মসংস্থান নেই,” এবং একরকম বিরোধী চাপ তৈরি করছেন। অন্যদিকে তৃণমূল দাবি করেছে, রাজ্যে বেকারত্ব গত কয়েক বছরে প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। এই চরম রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে ভোট প্রচারে গিয়ে অস্বস্তিতে পড়তে হয় মিতা বাগকে। সভায় গ্রামবাসীরা সরাসরি তাঁদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এক কৃষক বলেন, “ছেলে মাস্টার্স করেছে। কিন্তু আমার ছেলে ভিখারির মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমার ছেলেকে যে চাকরি দেবে তাকেই ভোট দেব।” এই মন্তব্যে শুধু মিতা বাগ (Mita Bag ) এর প্রচারণা নয়, তৃণমূলের সরকারের জনমুখী কর্মসূচিও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এমন সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ সাধারণ ভোটারদের মানসিকতায় গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। বিরোধীরা এটিকে শাসকদলের অক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, তৃণমূলের প্রচারকর্মীরা এই ধরনের ঘটনার প্রভাব কমাতে চেষ্টা করছেন, তবে জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া যে কতটা নেতিবাচক তা এখনও অজানা। সব মিলিয়ে, আরামবাগের এই ঘটনা শুধু ভোট প্রচারের অংশ নয় বরং পশ্চিমবঙ্গের কর্মসংস্থান ও বেকারত্ব নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও তীব্র করেছে।
আরামবাগের মাঠে তৃণমূল প্রার্থী মিতা বাগ (Mita Bag)-কে ঘিরে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ভোট প্রচারের সময় এক আলুচাষি সরাসরি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, গ্রামের কৃষকদের দুর্দশা নিয়ে। তিনি অভিযোগ করেন, আলুর বাজার নেই, সীমান্ত বন্ধ থাকায় রফতানি কার্যক্রম বন্ধ। ফলে চাষিরা চরম আর্থিক সংকটে। উগ্র কণ্ঠে তিনি বলেন, “চাষি কেন মরছে?” এই প্রশ্নে উপস্থিতদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু বিষয় শুধু কৃষি সীমাবদ্ধ থাকেনি। স্থানীয়রা সরকারি প্রকল্প নিয়েও সরাসরি ক্ষোভ উগরে দেন। এক মহিলা জানান, বহুবার সরকারি বাড়ির জন্য আবেদন করেছেন। প্রশাসনের লোক এসে ছবি তুলেও গিয়েছে, কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও বাড়ি পাননি। এই অভিযোগ শুনে মিতা বাগ (Mita Bag ) তা ভিত্তিহীন বলে উল্টো দাবি করেন। তবে উপস্থিত জনতা এবং কৃষকদের মুখা মুখি এই উত্তপ্ত মঞ্চে রাজনৈতিক চাপ এবং সাধারণ মানুষের অসন্তোষ স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়। পরিস্থিতি প্রমাণ করে, ভোটের আগে সরকারের জনপ্রিয়তা ও গ্রামীণ সমস্যার সঙ্গে প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার ফাঁক কতটা সংবেদনশীল হতে পারে।
এইদিনের ভোট প্রচারে মিতা বাগ (Mita Bag) ক্লান্তি যেন কোনো অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। টানা প্রচারের মাঝেও তিনি বারবার মুখে জল ছিটিয়ে নিজেকে সতেজ করে আবার মঞ্চে ফিরে আসেন। নানা সরাসরি প্রশ্ন এবং তীক্ষ্ণ অভিযোগের মুখোমুখি হলেও তিনি প্রচারে কোনো খামতি রাখেননি।
তবে এই প্রচার কেবল প্রার্থীর দৃঢ়তার সাক্ষী হয়ে থেমে থাকেনি গ্রামের সাধারণ মানুষদের জমে থাকা ক্ষোভ, অসন্তোষ ও হতাশা সরাসরি প্রকাশ পেয়েছে। আলুর দাম না থাকা, সরকারি প্রকল্পে অসামঞ্জস্য, চাকরির অভাব এসব সমস্যা ভোট প্রচারের মঞ্চে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি প্রমাণ করে, গ্রামের মানুষের চরম বাস্তবতা এবং রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির মধ্যে যে ফাঁক, তা এদিন সকলের সামনে অনায়াসে ফুটে উঠেছে।
আরামবাগের মায়াপুর-১ পঞ্চায়েতের হাটবসন্তপুরে তৃণমূল প্রার্থী মিতা বাগ (Mita Bag)-এর ভোট প্রচার একদমই মনমোহন মুহূর্তে ভরে ওঠে। প্রচারের মাঝেই এক ভোটারের ঘুঁটে শুকাতে দেখে তিনি তা উল্টে দেন, পাশের কর্মীরা জয় বাংলা স্লোগান দিতে থাকেন। সেই একই এলাকায় উপস্থিত এক অশীতিপর বৃদ্ধাও প্রার্থীকে দেখে উচ্ছ্বাসে দুই হাত তুলে নাচ শুরু করেন। মিতা বাগও তৎক্ষণাৎ বৃদ্ধার সঙ্গে নাচে যোগ দেন, তাকে কোলে তুলে নিয়ে সঙ্গ দেন এবং আলিঙ্গন করে জনতার সঙ্গে সম্পূর্ণ অন্তরঙ্গভাবে মেলেন।
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে দেখা যায়, প্রচারে কেবল রাজনৈতিক বার্তা নয়, প্রার্থী নিজের প্রাণবন্ত উপস্থিতি এবং জনতার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের কোনো সুযোগ হাতছাড়া করেননি। ভোটারদের সঙ্গে এই উচ্ছ্বাসময় মেলবন্ধন প্রমাণ করে, আরামবাগে তৃণমূল প্রার্থীর প্রচার কেবল প্রচার সভা নয় বরং জনমানসের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের এক জীবন্ত চিত্র।


