Aaj lndia Desk, পূর্ব মেদিনীপুর : পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরে বিজেপি (BJP) – র নির্বাচনী প্রচারসভা ঘিরে এবার জোর রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিজেপি প্রার্থী চন্দ্রশেখর মণ্ডলের সমর্থনে সভা করতে গিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) যে ভাষায় বক্তব্য রাখলেন, তা শুধু রাজনৈতিক আক্রমণেই সীমাবদ্ধ থাকেনি বরং নির্বাচন প্রক্রিয়া ও ভোটার তালিকা নিয়েই একাধিক প্রশ্ন তুলে দিয়েছে বলে মনে করছে বিরোধীরা।
সভা মঞ্চ থেকে আত্মবিশ্বাসী সুরে শুভেন্দু অধিকারী(Suvendu Adhikari) ঘোষণা করেন, “এবার বিজেপি ১৭৭-র নিচে নামবে না।” এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি স্পষ্টভাবে রাজ্যে ক্ষমতায় আসার লক্ষ্যকেই সামনে আনেন। তবে এর পরেই তাঁর বক্তব্য অন্য মাত্রা পায়। তিনি ‘ব্রেকফাস্ট ‘ ‘ লাঞ্চ’ , ‘ডিনার’-এর মতো দৈনন্দিন শব্দ ব্যবহার করে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন, যা কার্যত রাজনৈতিক কটাক্ষের পাশাপাশি প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকেও ব্যঙ্গ করার সামিল বলে মত অনেকের।
তাঁর দাবি অনুযায়ী, প্রথম দফায় ‘ব্রেকফাস্টে’৫৮ লক্ষ নাম বাদ গেছে, ‘লাঞ্চে’ ৬০ লক্ষ, এরপর ‘চা-চিনাবাদাম’-এর সময় আরও ১৪ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত ৭৯ লক্ষ নাম বাদ গেছে বলে তিনি দাবি করেন এবং ইঙ্গিত দেন যে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এই পরিসংখ্যানের সত্যতা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।
সমালোচকদের একাংশের মতে, এ ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন। কারণ, ভোটার তালিকা সংশোধন একটি সংবেদনশীল ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া, যা ভারতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। সেই প্রক্রিয়াকে ‘খাবারের টাইমটেবিল’-এর সঙ্গে তুলনা করা শুধু রসিকতা নয়, বরং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোরও সম্ভাবনা তৈরি করে।
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির অভিযোগ, শুভেন্দু অধিকারীর এই বক্তব্যের মাধ্যমে একদিকে যেমন নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করার চেষ্টা হয়েছে, অন্যদিকে তাতে ভোটারদের মধ্যে ভীতি ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ গড়ে তোলার ইঙ্গিতও রয়েছে। তাঁদের মতে, এই ধরনের ভাষণ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক মেরুকরণ বাড়ানোর কৌশল হতে পারে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্যে দ্বিমুখী বার্তা রয়েছে। একদিকে বিজেপির শক্তিশালী অবস্থান ও আত্মবিশ্বাস তুলে ধরার চেষ্টা, অন্যদিকে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে জনমানসে সংশয় তৈরি করা। তবে এই কৌশল কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে সাধারণ ভোটারদের প্রতিক্রিয়ার উপর।
সব মিলিয়ে, রামনগরের এই সভা শুধুমাত্র একটি নির্বাচনী প্রচারসভা হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বরং শুভেন্দু অধিকারীর বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। ভোটের আগে এই ধরনের মন্তব্য কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখনই চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে।


