26 C
Kolkata
Wednesday, March 25, 2026
spot_img

কোটি টাকার প্রকল্প, তবু শূন্য পরিষেবা প্রশ্নের মুখে জল ব্যবস্থা

                                              SPECIAL FEATURE 

Aaj lndia Desk, সুরভী কুন্ডু : বর্ধমান(Burdwan) – এর গ্রামেগঞ্জে জল প্রকল্প এখন যেন এক নিঃশব্দ প্রতারণার প্রতীক। ঘরে ঘরে কল বসেছে, পাইপ লাইন টানা হয়েছে কাগজে কলমে উন্নয়নের ছবি একেবারে ঝকঝকে। কিন্তু বাস্তবে? কল খুললেই বেরোয় না একফোঁটা জল, বরং বেরিয়ে আসে মানুষের হতাশা আর ক্ষোভ। লোকসভা ভোটের আগে বড় বড় প্রতিশ্রুতি প্রত্যেক ঘরে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস। রাজ্য ও কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তব চিত্র আজ গ্রামে গ্রামে প্রশ্ন তুলছে এই প্রকল্প কি শুধুই ভোটের আগে দেখানোর জন্য ছিল? স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি এখন আর কেউই সরকারের এই জলের ভরসায় বসে নেই , বিকল্প পথ বেছে নিয়েছে প্রত্যেকেই , যখন সাধারণ মানুষকে নিজের টাকা খরচ করে জলের জন্য বিকল্প পদ্ধতি গ্রহণ করেই নিতে হয় , তখন আলাদাভাবে সরকারের এই প্রকল্প কতটা কার্যকারী সেই প্রশ্নটাই উঠে আসছে বারবার । তবে তার থেকেও বড় প্রশ্ন, কাজ শুরু হল কেন যদি শেষ করার ইচ্ছাই না থাকে? কোথায় আটকে আছে এই প্রকল্প?প্রশাসনের নজরদারির অভাব, নাকি পরিকল্পনার গলদ দায় নেবে কে?উন্নয়নের নামে যদি শুধু পরিকাঠামো দাঁড় করিয়ে রেখে দেওয়া হয়, আর পরিষেবা না পৌঁছয় তাহলে সেই উন্নয়ন আসলে কার জন্য? বর্ধমান (Burdwan)-এর এই ছবিই এখন সেই প্রশ্ন তুলছে।

জল প্রকল্প ঘিরে বর্ধমানসহ বাংলার বিভিন্ন জেলায় যে বাস্তব ছবি সামনে আসছে, তা শুধু প্রশাসনিক গাফিলতির নয় এটা নীতিগত দ্বন্দ্ব আর রাজনৈতিক টানাপোড়েনেরও ফল বলেই মনে করছেন অনেকে। প্রকল্পের অর্থায়নের কাঠামো স্পষ্ট ৫০ শতাংশ কেন্দ্র (Central Government), ৪০ শতাংশ রাজ্য (State Government), আর বাকি ১০ শতাংশ দেওয়ার কথা উপভোক্তার। কিন্তু এই ১০ শতাংশ নিয়েই এক সময় শুরু হয় টানাপোড়েন। নবান্নের আপত্তি সাধারণ মানুষকে কেন টাকা দিতে হবে? ফলাফল, সিদ্ধান্তে দেরি, প্রকল্পের সূচনায় বিলম্ব। প্রশ্ন উঠছে, মানুষের স্বার্থে নেওয়া অবস্থান কি শেষ পর্যন্ত মানুষেরই ক্ষতি ডেকে আনল?পরে অবশ্য জট কাটে। কেন্দ্রের পাশাপাশি রাজ্যও ৫০ শতাংশ অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, এবং উপভোক্তাদের উপর থেকে সেই ১০ শতাংশের চাপ সরানো হয়। শুনতে নিঃসন্দেহে জনমুখী পদক্ষেপ। কিন্তু বাস্তব মাটিতে দাঁড়িয়ে ছবিটা অনেকটাই আলাদা। কারণ, যেখানে একদিকে বলা হচ্ছে “ফ্রি” পরিষেবা , অন্যদিকে বহু এলাকায় আজও কল বসে থাকলেও জল পৌঁছয়নি। অর্থাৎ, টাকা কে দেবে এই বিতর্ক মিটলেও, পরিষেবা কবে পৌঁছবে সেই প্রশ্নটাই আজ বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সমালোচকদের দাবি, এই পুরো প্রক্রিয়ায় সময় নষ্ট হয়েছে অযথা নীতিগত দ্বন্দ্বে। কেন্দ্র-রাজ্যের টানাপোড়েনে প্রকল্পের গতি কমেছে, আর তার খেসারত দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। যাঁদের জন্য এত পরিকল্পনা, এত অর্থ বরাদ্দ তাঁরাই আজও জলহীন। আরও বড় প্রশ্ন উঠছে উপভোক্তাদের উপর থেকে অর্থের চাপ সরিয়ে দেওয়া কি সত্যিই কল্যাণমূলক সিদ্ধান্ত, নাকি রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার কৌশল? কারণ পরিষেবা যদি সময়মতো না পৌঁছয়, তাহলে “বিনামূল্যে” শব্দটা শুধুই কাগজে থেকে যায়। সব মিলিয়ে, এই জল প্রকল্প এখন উন্নয়নের উদাহরণ না হয়ে, বরং এক জটিল বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি যেখানে প্রতিশ্রুতি আছে, অর্থ আছে, কিন্তু নেই নির্ভরযোগ্য বাস্তবায়ন। আর সেই ফাঁকটাই ক্রমশ বড় হয়ে উঠছে মানুষের ক্ষোভে।

Aaj lndia সরাসরি বর্ধমান জেলার মন্তেশ্বর (Monteshwar ) গ্রামের বাসিন্দাদের সাথে যোগাযোগ করেন , ওই গ্রামের বাসিন্দা প্রশান্ত প্রামিনিক জানান ” গত এক-দেড় বছর আগেই কল বাড়িতে এসেছে ,তবে জল কবে আসবে তা জানি না , তবে তিনি আশাবাদী লোকসভা নির্বাচনে প্রতিশ্রুতি বিধানসভা নির্বাচনের আগে কার্যকর হলেও হতে পারে , তবে একই সাথে তিনি অনিশ্চয়তা নিয়ে এও বলেন ‘ হাতে আর একটা মাস দেখা যাক জল আসে কি না ‘ । তবে জানা গেছে মন্তেশ্বর গ্রামের আশেপাশের গ্রামে ইতিমধ্যেই জল পৌঁছিয়েছে , এ তো গেল বর্ধমান পূর্বের কথা। দক্ষিণের ঘটনায় আবার অন্য চিত্র , সে খানে চলে খামখেয়ালী খেলা , মাঝে – মাঝে জল আসে , কখন ও দিনে এক বার তো কখনও নিয়ম মেনেই , মাঝে মধ্যে নির্ধারিত সময়ে আগেই জল বন্ধ । পরিষেবার যদি এই অবস্থা হয় তবে তা ঘোষণার কারণ কি ? এমনই প্রশ্ন তুনেলেন অনেকে ।

সংখ্যায় প্রকল্প বাড়ছে, কাগজে উন্নয়নের গ্রাফও ঊর্ধ্বমুখী কিন্তু বাস্তবে সমস্যার সমাধানে যেন বিন্দুমাত্র অগ্রগতি নেই। ভোটের আগে প্রতিশ্রুতির বন্যা, আর ভোট পেরোতেই তা হারিয়ে যায় বিস্মৃতির অন্ধকারে। লোকসভা, বিধানসভা, পঞ্চায়েত ঘুরে ফিরে একই চক্র, একই খেলা। জল এল কি এল না, সেই প্রশ্নে প্রশাসনের দায়বদ্ধতা যেন ক্রমশ ফিকে। আশ্চর্যের বিষয়, এই অনিশ্চয়তার সঙ্গে মানিয়ে নিয়েই নিজেদের মতো সমাধান খুঁজে নিয়েছেন সাধারণ মানুষ। বাড়িতে জলের ট্যাঙ্ক বানিয়ে, নিজেরাই সামলাচ্ছেন দৈনন্দিন প্রয়োজন।

তবুও প্রশ্নটা থেকে যায় যখন কোটি কোটি টাকা খরচ করে প্রকল্প নেওয়া হয়, তখন সেই প্রকল্প কতটা কার্যকর, যদি শেষমেশ সমস্যার সমাধানের ভার নিতে হয় সাধারণ মানুষকেই?

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন