Aaj India Desk, কলকাতা : ভরদুপুরের সেই ভয়ঙ্কর ঘটনার পর থেকেই একের পর এক প্রশ্ন যেন আরও জটিল হয়ে উঠছে। একটি সাধারণ দিন, একটি চেনা জায়গা সবকিছুই ছিল স্বাভাবিক ছন্দে। অথচ মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে সেই স্বাভাবিকতাই বদলে গেল রক্তাক্ত দুঃস্বপ্নে।সবচেয়ে বড় প্রশ্ন কে ছিল ওই যুবক? কী ছিল তার সঙ্গে রূপবানী দেবীর সম্পর্ক? পরিচিত, না কি একেবারেই অচেনা কেউ? আর যদি পরিচিত হন, তাহলে সেই সম্পর্কের গভীরতা কতটা ছিল?প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের টানাপোড়েন। কিন্তু তাতেই কি শেষ হয়ে যায় সব ব্যাখ্যা? নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও জটিল কোনও আবেগ, দ্বন্দ্ব, বা গোপন সম্পর্কের ইতিহাস? এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের মনেও এখন ঘুরপাক খাচ্ছে অন্য এক সম্ভাবনা।আজকের দিনে সম্পর্কের শুরু অনেক সময়ই বাস্তবের বাইরে, ভার্চুয়াল জগতে (Virtual world ) ফেসবুক (Facebook) কিংবা ইন্টাগ্রাম (Instagram) -এর মতো প্ল্যাটফর্মে। সেখান থেকেই কি তৈরি হয়েছিল এই সম্পর্ক? সেখান থেকেই কি ধীরে ধীরে জট পাকিয়েছে পরিস্থিতি? আরেকটা প্রশ্নও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ এটা কি একটি “লাভ ট্রায়াঙ্গেল” ( love triangle )-এর জটিল পরিণতি? একাধিক মানুষের আবেগ, টানাপোড়েন আর অমিলের ফলেই কি এমন চরম পরিস্থিতি তৈরি হল? ঘটনার সময়টাও ভাবাচ্ছে অনেককে। দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে স্বামী নিজে স্ত্রীকে পার্লারে নামিয়ে দিয়ে গেলেন। সব কিছু তখন স্বাভাবিক। আর মাত্র ৩০-৪০ মিনিটের মধ্যেই ফোনের ভিতরে তুমুল অশান্তি! এত কম সময়ের মধ্যে কী এমন ঘটল, যা পরিস্থিতিকে এতটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে গেল? পার্লারের ভিতরে ঠিক কী হয়েছিল সেই সময়? কোনও পূর্বপরিকল্পনা ছিল, নাকি হঠাৎ উত্তেজনার বশে ঘটল এই ভয়ঙ্কর ঘটনা? যুবক কি আগে থেকেই সেখানে উপস্থিত ছিল, নাকি পরে এসেছে? প্রশ্নের তালিকা যেন শেষই হচ্ছে না। প্রতিটি প্রশ্নের সঙ্গে জুড়ে আছে একেকটা অজানা দিক, একেকটা অন্ধকার কোণ।
ভরদুপুরের ব্যস্ততা হঠাৎই থমকে গেল এক বিভীষিকাময় ঘটনায়। গড়িয়া ( Goria ) – র তেঁতুলতলায়, নিজের বিউটি পার্লারের ভিতরেই নৃশংসভাবে খুন হলেন এক মহিলা। আর সেই রক্তাক্ত ঘটনার পরই আত্মঘাতী অভিযুক্ত যুবক। জনবহুল এলাকায় দিনের আলোয় এমন ঘটনার সাক্ষী হয়ে শিউরে উঠেছেন স্থানীয়রা। যে জায়গায় প্রতিদিনের স্বাভাবিকতা, সেখানে আচমকাই নেমে এল আতঙ্ক আর অস্বস্তির ছায়া। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকেই এই জোড়া মৃত্যুর ঘটনা। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে কী এমন ঘটেছিল, যার পরিণতি এতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে? তদন্ত এগোচ্ছে, আর সেই সঙ্গেই সামনে আসার অপেক্ষায় ঘটনার আসল সত্য।
মৃতার নাম রূপবানী দাস (৫০)। স্বামী অনুপ কুমার দাসের সঙ্গে বহু বছর ধরেই গড়িয়ার তেঁতুলতলায় বসবাস করতেন তিনি। প্রায় ১৫ বছর ধরে ওই এলাকাতেই নিজের বিউটি পার্লার চালিয়ে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন রূপবানী। ঘটনার দিনটাও শুরু হয়েছিল একেবারে স্বাভাবিক ছন্দেই। দুপুর ১২টা ৫ মিনিট নাগাদ অন্যান্য দিনের মতোই অনুপবাবু স্ত্রীকে পার্লারের সামনে নামিয়ে দিয়ে যান। সব কিছুই ছিল নিত্যদিনের মতো কোনও অস্বাভাবিকতার ছাপ ছিল না কোথাও। কিন্তু সেই স্বাভাবিকতার আবরণ ভাঙতে সময় লাগেনি বেশি। আনুমানিক পৌনে ১টা নাগাদ আচমকাই পার্লার থেকে বাড়িতে ফোন আসে ভিতরে নাকি তুমুল অশান্তি, মারামারি চলছে! মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে কী এমন ঘটল, যা একটা সাধারণ দুপুরকে রূপ দিল দুঃস্বপ্নে? সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সকলের মনে।
খবর পেয়ে কালবিলম্ব না করে স্বামী অনুপবাবু, তাঁদের ছেলে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। আসেন পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও। কিন্তু ততক্ষণে বড্ড দেরি হয়ে গিয়েছে। পার্লারে ঢুকে তাঁরা দেখেন, চারপাশ রক্তে ভেসে যাচ্ছে। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে রয়েছে রূপবানী দেবীর নিথর দেহ। পাশেই পড়ে রয়েছে আরও এক যুবকের মৃতদেহ। খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোরগোল পড়ে যায় এলাকায়। পার্লারের বাইরে জমতে থাকে কৌতূহলী জনতার ভিড়।
এখন সবার নজর তদন্তের দিকে। কারণ এই রহস্যের জট খুললেই সামনে আসবে আসল সত্য এটা কি নিছকই একটি সম্পর্কের ট্র্যাজেডি, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে আরও গভীর, অপ্রকাশিত কোনও গল্প?


