Aaj lndia Desk, আলিপুরদুয়ার : লোকসভায় (Lok Sabha)আসতে চলেছে রূপান্তরকামী (Transgender) ব্যক্তি অধিকার সুরক্ষা সংশোধনী বিল, ২০২৬ আর তার আগেই চুপচাপ জমে উঠছে এক অদৃশ্য ঝড়। প্রস্তাব বলছে, আর শুধু নিজের ইচ্ছায় নয় নিজেকে রূপান্তরকামী বলে ঘোষণা করতে গেলেই লাগবে ‘প্রমাণ’। নির্দিষ্ট মেডিক্যাল প্রক্রিয়া, তারপর সার্টিফিকেট তবেই মিলবে পরিচয়ের স্বীকৃতি।
কিন্তু প্রশ্নটা এখানেই পরিচয় কি কাগজে মাপা যায়? নাকি এবার থেকে নিজের সত্তাকেও প্রমাণ করতে হবে পরীক্ষাগারে? বিল এখনও টেবিলে উঠতেই পারেনি, তার আগেই দেশজুড়ে চাপা গুঞ্জন। কেউ বলছেন, এটা শৃঙ্খলা আনার চেষ্টা। আবার কেউ দেখছেন ব্যক্তিস্বাধীনতার ওপর অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণের ছায়া। শেষ পর্যন্ত এই বিল কী বদল আনবে আইনের ভাষা, না মানুষের পরিচয়ের সংজ্ঞা? উত্তর এখনও অজানা কিন্তু বিতর্ক ইতিমধ্যেই তুঙ্গে।
তবে সরকারের তরফে ভিন্ন সুর। সোশ্যাল জাস্টিস মন্ত্রকের দাবি রূপান্তরকামী (Transgender) হিসেবে কারা স্বীকৃতি পাবেন, সেই সংজ্ঞা স্পষ্ট না থাকায় তৈরি হয়েছে এক ধোঁয়াশা। আর সেই ফাঁক গলেই নাকি বাড়ছে ভুয়ো পরিচয়ের সংখ্যা। ফলে প্রকৃত রূপান্তরকামীরাই বঞ্চিত হচ্ছেন সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে।
কিন্তু এখানেই তীব্র আপত্তি রূপান্তরকামী (Transgender) সংগঠনগুলির। তাঁদের অভিযোগ, এই সংশোধনী আসলে সুরক্ষা নয়, বরং অধিকারেই কাটছাঁট। প্রশ্ন উঠছে যে পরিচয় এতদিন ব্যক্তির নিজের, সেটাই কি এবার নির্ধারিত হবে কাগজ আর পরীক্ষার মাধ্যমে? অধিকারকর্মীদের একাংশের আরও দাবি, এই বিল লিঙ্গ স্বীকৃতিকে সহজ করার বদলে উল্টে আরও জটিল করে তুলছে। যে স্বীকৃতি পাওয়ার কথা সহজে, সেটাই কি এবার হয়ে উঠবে কঠিন পথচলা? বিতর্ক তাই থামার নাম নেই এটা কি সত্যিই স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা, নাকি অধিকার সীমাবদ্ধ করার নতুন উপায়? উত্তর খুঁজছে দেশ।
প্রস্তাবিত বিল ঘিরে ক্ষোভ এখন আর চাপা নেই তা ছড়িয়ে পড়েছে গোটা দেশজুড়ে।রূপান্তরকামীদের বড় অংশের মধ্যেই তৈরি হয়েছে তীব্র অসন্তোষ, আর সেই ক্ষোভ এবার রাস্তায় নেমে পড়েছে।
একাধিক রাজ্য থেকেই ইতিমধ্যেই বিক্ষোভের ছবি সামনে এসেছে। আন্দোলনকারীদের একাংশের আশঙ্কা, এই বিল কার্যকর হলে রূপান্তরকামী মানুষের ব্যক্তিস্বাধীনতা সঙ্কুচিত হবে, প্রশ্নের মুখে পড়বে তাঁদের ন্যায্য অধিকারও।এই প্রতিবাদের আঁচ পৌঁছেছে বাংলাতেও। আলিপুরদুয়ার (Alipurduar ) – এর বীরপাড়ায় সোমবার রাস্তায় নামেন বহু রূপান্তরকামী। প্রায় ৫০ জন একত্রিত হয়ে সরব হন প্রস্তাবিত বিলের বিরুদ্ধে। প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে পোড়ানো হয় বিলের প্রতিলিপি, চলে দীর্ঘক্ষণ ধরে বিক্ষোভ আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট বার্তা এই বিল মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। তাঁদের দাবি, সরকারকে ফের নতুন করে ভাবতে হবে, সংশোধন করতে হবে এই প্রস্তাব।
এখন প্রশ্ন একটাই রূপান্তরকামীদের এই দাবি আদতে কতটা কার্যকর হবে?বাস্তবটা কিন্তু এত সহজ নয়। একদিকে যখন দেশজুড়ে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ, সংগঠিত আন্দোলন অন্যদিকে আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়াও নিজের গতিতে এগোয়। ইতিহাস বলছে, জনমত অনেক সময়ই আইন বদলাতে পারে, কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন দীর্ঘস্থায়ী চাপ, সংগঠিত লড়াই এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা।
এই মুহূর্তে যে ক্ষোভের বিস্ফোরণ দেখা যাচ্ছে, তা কি কেবল সাময়িক, নাকি তা বড় আকারের গণআন্দোলনে রূপ নেবে সেটাই হবে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর। কারণ, আন্দোলন যত বিস্তৃত হবে, ততই বাড়বে সরকারের উপর চাপ।
তবে আরেকটা দিকও উড়িয়ে দেওয়া যায় না সরকার যদি মনে করে এই সংশোধনী প্রয়োজনীয়, তাহলে কিছু পরিবর্তন করে হলেও বিল পাশ করানোর পথ খোলা রাখবে। সেক্ষেত্রে সম্পূর্ণ দাবি মেনে নেওয়ার বদলে আংশিক সংশোধনই হতে পারে সমাধান।
সব মিলিয়ে, রূপান্তরকামীদের দাবি এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে এটা কি সত্যিই নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলবে, নাকি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চাপা পড়ে যাবে, সেটাই এখন দেখার।


