Aaj India Desk, কলকাতা : ভোটের মুখে নিজের পছন্দের এলাকা খড়্গপুর সদরে প্রার্থী হয়ে ফিরেছেন বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) কিন্তু তার আগেই বিজেপির অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন অস্বস্তি। স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদারকে টিকিট না দেওয়া ঘিরে সামনে আসছে দলের অন্দরে সম্ভাব্য অসন্তোষের ইঙ্গিত।
দিলীপ ঘোষ দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির অন্যতম মুখ। রাজ্য সভাপতি হিসেবে তাঁর সময়ে সংগঠন বিস্তার লাভ করে। পরবর্তী সময়ে তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে কিছুটা আড়ালে থাকলেও, খড়্গপুর সদরে তাঁকে ফের প্রার্থী করা দলের কৌশলগত সিদ্ধান্ত বলেই মনে করা হচ্ছে। এই কেন্দ্রে তাঁর ব্যক্তিগত প্রভাব এবং সংগঠনিক অভিজ্ঞতা বিজেপির কাছে বড় সম্পদ। ফলে, নির্বাচনের আগে পরিচিত মুখকে সামনে এনে ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখার চেষ্টা স্পষ্ট।
প্রার্থীপদ ঘিরে অসন্তোষ
অন্যদিকে, দিলীপ পত্নী রিঙ্কু মজুমদারও বিজেপির প্রার্থী হতে চেয়ে বায়োডাটা জমা দিলেও তাকে টিকিট দেয়নি বিজেপি। এরপরে সল্টলেকে বিজেপির কার্যালয়ের সামনে কর্মী – সমর্থকদের বিক্ষোভেও শামিল হন রিঙ্কু। সেইসময়েও কোনো পক্ষ নেননি দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। বরং বলেন রিঙ্কু তাঁর অনেক আগে থেকেই বিজেপির সাথে যুক্ত।
টার্গেট করছেন দলকেই ?
এরপরেই প্রশ্ন ওঠে, দলীয় অভ্যন্তরের সমীকরণে স্ত্রী বঞ্চিত হওয়ায় কি তবে দলের প্রতি নারাজ দিলীপ ? সরাসরি কিছু না বললেও, তাঁর বক্তব্যের মধ্যে দলীয় নেতৃত্বের প্রতি অসন্তোষের ইঙ্গিত রয়েছে কি না, তা নিয়েও চলছে জল্পনা। রাজনৈতিক মহলের মতে, বর্তমানে দিলীপ ঘোষের ‘কাহি পে নিগাহে, কাহি পে নিশানা’ অবস্থা চলছে। প্রকাশ্যে অসন্তোষ না দেখালেও পরোক্ষভাবে দলকেই টার্গেট করছেন বলে মনে সংশ্লিষ্টদের।
নির্বাচনের আগে প্রার্থী বাছাই নিয়ে অসন্তোষ নতুন নয়। তবে তা কতটা বড় আকার নেবে, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। যদি দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh) অসন্তোষ বাড়ে, তবে তা স্থানীয় সংগঠনে প্রভাব ফেলবে। এখনও পর্যন্ত বিজেপির তরফে এই ইস্যুতে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া নেই। ফলে এই পরিস্থিতি বিজেপির রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে দিলীপ ঘোষের পরবর্তী ভূমিকা, দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় এবং নির্বাচনী প্রচারের গতিপ্রকৃতির উপর।


