Aaj India Desk, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ ঘিরে বিজেপির (BJP) অন্দরে গোষ্ঠী কোন্দল ও প্রার্থী অসন্তোষ সামনে আসতেই তৎপর হলো কেন্দ্র ও রাজ্য নেতৃত্ব। ‘টার্গেট জোন’ ধরে সংগঠন মজবুত করতে জরুরি বৈঠক করলেন শমীক ভট্টাচার্য-সুনীল বনশালরা।
বিজেপি (BJP) সূত্রে খবর, বীরভূম ও পূর্ব-পশ্চিম বর্ধমান এই চার জেলায় অধিকাংশ আসন এখনও তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে থাকায় এই অঞ্চলকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে দল। দলীয় সূত্রের দাবি, দুর্গাপুর পূর্ব, সিউড়ি, বোলপুর, লাভপুর, নানুর, রামপুরহাট, ময়ূরেশ্বর, দুবরাজপুর, কাটোয়া, মঙ্গলকোট, আউশগ্রাম, গলসি, আসানসোল উত্তর-দক্ষিণ, কুলটি, রানিগঞ্জ, বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুর, তালডাংরা ও রাইপুর এইসব আসনে বিজেপি তুলনামূলকভাবে দুর্বল। ফলে এসব এলাকায় বিশেষ কৌশল নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্যেই ৫৬ জন প্রার্থীকে নিয়ে বৈঠকে সংগঠন শক্তিশালী করা এবং পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।
এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সতীশ ধন্দ, সুনীল বনশাল, ভূপিন্দর সিং যাদব, রাজ্য সম্পাদক সৌমিত্র খাঁ এবং সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। বৈঠকে প্রার্থীদের স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, গোষ্ঠী কোন্দল ভুলে একযোগে কাজ করতে হবে। দলীয় ভাঙন রুখে ভোটের আগে সংগঠনকে শক্তিশালী করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
বৈঠক প্রসঙ্গে শামিক ভট্টাচার্য বলেন, “দলের অভ্যন্তরীণ আলোচনা বাইরে আনা ঠিক নয়।” পাশাপাশি ভোটের নিরাপত্তা ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও তিনি বলেন, “এবারের নির্বাচন ২০১১ সালের থেকেও কঠিন হতে চলেছে।” তিনি আরও দাবি করেন, ২০১৯ সালের পর থেকে বাংলার রাজনীতিতে একটি ‘বাইনারি’ তৈরি হয়েছে, যেখানে তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি (BJP)। ফলত রাজ্য জয় করতে সম্পূর্ণরুপে রণক্ষেত্রে নেমে পড়েছে বিজেপি।
সব মিলিয়ে, তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতে সংগঠন মজবুত করে ভোটের আগে ঘুরে দাঁড়াতেই এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল।


