বারাসাত: প্রার্থী অপছন্দ নিয়ে এমনিতেই অস্বস্তিতে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি (BJP)। প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর জেলায় জেলায় বিক্ষোভের ঝড় ওঠে। এমনকি কলকাতার সল্টলেকে বিজেপির কার্যালয়ের সামনে পর্যন্ত আছড়ে পড়ে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভের ঢেউ। এবার টিকিট পাওয়া নিয়ে টাকা চাওয়ার অভিযোগ তুললেন বারাসাতের বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা মৃণালকান্তি দেবনাথ।
২০১৯-এর লোকসভা ভোটে বারাসাত থেকে বিজেপির (BJP) প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, সেবার টিকিট পাওয়ার পর তাঁকে দিল্লি থেকে ফোন করে জানতে চাওয়া হয়, তিনি টাকা দিয়েছেন কিনা? উত্তরে মৃণালকান্তি জানান, যে তিনি কোনও টাকা দেননি। এরপর ফোনের ওপার থেকে বলা হয়, ৫০ লক্ষ টাকা দিতে হবে। তাতে নাকি সাফ “না” জানিয়ে দেন মৃণালকান্তি। দিল্লি থেকে কে ছিলেন ফোনের ওপারে? বারাসাতের প্রবীণ নেতার অনুমান, কৈলাস বিজয়বর্গীয় ঘুরপথে তাঁর থেকে টাকা চেয়েছিলেন।
লোকসভা ভোটের ক্ষোভ?
এরপর ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে ফের প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন মৃণালকান্তি দেবনাথ। কিন্তু দল তাঁকে টিকিট দেয়নি। সেই ক্ষোভ তিনি উগড়েছিলেন বারাসাতের টিকিট প্রাপ্ত প্রার্থী স্বপন মজুমদারের উপর। তাঁকে ভোট না দেওয়ার কোথাও ঘোষণা করেছিলেন মৃণালকান্তি। যার প্রেক্ষিতে স্বপন মজুমদার বলেছিলেন, “টিকিট না পেয়ে ভেঙে পড়েছেন মৃণাল”! এবার বিধানসভা নির্বাচনেও দলকে সমর্থন করলেও কোনও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকতে চান না বলে জানিয়েছেন মৃণালকান্তি দেবনাথ।
যদিও, রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০২৪-এর ক্ষোভেই বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির (BJP) অস্বস্তি হয়ত বাড়াতে চাইছেন প্রবীণ নেতা। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বারাসাত বিধানসভা কেন্দ্রে শঙ্কর চ্যাটার্জিকে প্রার্থী করেছে বিজেপি (BJP)। সেই নিয়েও স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফার তালিকায় শঙ্কর চ্যাটার্জির নাম ঘোষণার পর বারাসাতে তাঁর বিরুদ্ধে পোস্টার পড়তে শুরু করে। এমনকি জেলা পার্টি অফিসের বাইরেও দেখা যায় পোস্টার। তাঁকে ‘তৃণমূলের দালাল’ বলে উল্লেখ করা হয়।


