কলকাতা: উত্তরপ্রদেশের ফর্মুলা যে বাংলায় খাটবে না, একুশের ফলাফলেই তা হয়ত স্পষ্ট বুঝে গিয়েছে গেরুয়া শিবির (BJP)। তাই যোগীজির মাছ-মাংস বন্ধের হুঁশিয়ারি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কিছুটা ঢোক গিলেই জবাব দিয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে সঞ্চালককে পাত পেড়ে মাছ-মাংসও খাইয়েছেন তিনি।
মাছে-ভাতে বাঙালি যে নিজেদের খাদ্যাভাস নিয়ে শুধু খুঁতখুঁতে নয়, বরং আবেগ প্রবণও বটে, ছাব্বিশের ভোটের দামাম বাজতেই বাংলার নেতৃত্ব সেই বিষয়ে সচেতন হয়ে গিয়েছে। তাই রাজ্য সভাপতি থেকে শুরু করে বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট পাওয়া প্রার্থী, সকলের মুখেই মাছে-ভাতে বাঙালির উল্লেখ। একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে শমীক ভট্টাচার্য বলেছিলেন, “বাঙালি মাছ ছাড়া খাবে কি?” বিবেকানন্দ বলে গেছেন, মা কালী পাঁঠা খাবে। বাঙালি পাঁঠা খাবে”।
মাছ হাতে ভোটপ্রচার
এবার তাই হয়ত, মাছে-ভাতে বাঙালির আস্থা অর্জন করতে বড় একখানা আস্ত কাতলা মাছ নিয়ে ভোটের প্রচারে নামলেন বিধাননগর কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী (BJP Candidate) ডঃ শরদ্বত মুখার্জি। দোকানে দোকানে গিয়ে বলেন, “কে বলেছে মাছ খাবো না! সব খাবো! যাতে মিথ্যা ছড়ানো বন্ধ হয়”। বাজারের মাংসের দোকানে ঢুকে তিনি বলেন, “লোকে আনন্দে মাংস খাবে। আপনার বিক্রি আরও বাড়বে। ছাব্বিশের নির্বাচন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিসর্জন”। তিনি আরও বলেন, “দরকার হয়, আমরা মাছ পাঠিয়ে দেব”।
X Link: https://x.com/pooja_news/status/2035636301429669973
বলা বাহুল্য, বিজেপির (BJP) বেশ কিছু নেতা-মন্ত্রীর গলায় মাছ-মাংস খাওয়া অপরাধ, বা সেটা হিন্দুদের খাবার নয় শোনা গিয়েছে। যাকে অস্ত্র করে সুর চড়িয়েছে তৃণমূল। বিজেপি আদপে ‘মাছে-ভাতে বাঙালি পরিচয়টাই মুছে ফেলতে চাইছে’ বলে অভিযোগ তুলেছে তারা। আসন্ন বঙ্গভোটে বাঙালির আবেগ মাছ নিয়ে প্রচার, ইভিএমে কতটা প্রভাব ফেলবে সেটাই দেখার।


