Aaj India Desk, কলকাতা : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে প্রার্থীদের হলফনামায় নিজেদের বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত ফৌজদারি মামলার বিবরণ দেওয়া বাধ্যতামূলক। সেই নিয়ম মেনেই নিজের বিরুদ্ধে কতগুলি মামলা রয়েছে, তা জানতে পুলিশের কাছে আবেদন করেছিলেন ময়না কেন্দ্রের বর্তমান বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দা (Ashok Dinda)।
সেই আবেদনের পরও রাজ্য পুলিশের তরফে কোনও স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। ফলে আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণ করতে সমস্যায় পড়েন তিনি। এই পরিস্থিতিতেই শুক্রবার তিনি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন।
রাজ্য পুলিশের নীরবতায় প্রশ্ন কোর্টের
শুনানিতে কলকাতা পুলিশ জানায়, গত বছরের অগাস্টে নিউ মার্কেট থানায় অশোক দিন্দার (Ashok Dinda) বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের হয়েছিল। এর বাইরে কলকাতা পুলিশের এলাকায় তাঁর নামে আর কোনও মামলা নেই বলেও জানানো হয়। তবে রাজ্য পুলিশের অধীন এলাকায় তাঁর বিরুদ্ধে কোনও মামলা রয়েছে কি না, সেই বিষয়ে আদালতে কোনও তথ্য জমা দেওয়া হয়নি। এই প্রেক্ষিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য রাজ্যের ডিজিপি সিদ্ধিনাথ গুপ্তকে নির্দেশ দেন, রাজ্য পুলিশের আওতায় দিন্দার বিরুদ্ধে মোট কতগুলি মামলা রয়েছে, তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আদালতে জানাতে হবে।
তথ্য পেতে দেরি কেনো ?
আইন অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে থাকা মামলার তথ্য তিনি জানতে চাইলে তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে, বিশেষ করে যখন তা নির্বাচনী হলফনামার সঙ্গে যুক্ত। তবে বিভিন্ন থানায় বিচ্ছিন্নভাবে থাকা মামলার তথ্য একত্র করতে সময় লাগে। রাজ্য পুলিশের একাধিক জেলার ডেটা যাচাই করা একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে পুরনো বা নিষ্পত্তি হওয়া মামলার তথ্য ডিজিটাল রেকর্ডে আপডেট থাকে না, ফলে যাচাইয়ে বিলম্ব হয় বলে জানিয়েছে কলকাতা পুলিশ। নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক চাপ বেড়ে যাওয়ায় এই ধরনের তথ্য সরবরাহে দেরি হতে পারে।
তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রার্থীর নির্বাচনী অধিকার রক্ষার জন্য এই তথ্য সময়মতো দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ময়না কেন্দ্রে ২৩ এপ্রিল ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা। তার আগে ৬ এপ্রিল মনোনয়ন জমার শেষ দিন। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মামলার তথ্য পাওয়া অশোক দিন্দার (Ashok Dinda) জন্য অত্যন্ত জরুরি। আদালতের হস্তক্ষেপে এবার আদৌ কতটা সুরাহা মেলে সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


