Aaj India Desk, কলকাতা: কলকাতার বুকে আবারও এক রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য। সুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে যাওয়া এক তরুণ, আর ফেরার পথে সাদা কাপড়ে মোড়া দেহ এই চিত্র যেন বারবার প্রশ্নের মুখে ফেলছে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে।এসএসকেএম হাসপাতাল (SSKM Hospital ) চত্বরে এক তরুণের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
সকালে আর জি কর (RG Kar Medical College and Hospital)-এর ঘটনা এখনও মানুষের মনে তাজা। সেই আবহেই আবার এই অস্বস্তিকর খবর সামনে আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে, সরকারি হাসপাতাল কি আর নিরাপদ নয়?
জানা যাচ্ছে, মৃত ওই তরুণ কোনও রোগী নন, বরং হাসপাতালেরই এক কর্মী। ২২ বছরের ইমরান সর্দার পেশায় ছিলেন সাফাইকর্মী এবং চুক্তিভিত্তিকভাবে গ্যাস্ট্রো বিভাগে কাজ করতেন। শুক্রবার সকালে হাসপাতালের মেইন ব্লকের উল্টোদিকে, গ্যাস্ট্রো OPD-র কাছে চারতলা থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। কাজের জায়গাতেই এমন পরিণতি এই ঘটনাই আরও বেশি প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে হাসপাতালের ভেতরের নিরাপত্তা ও পরিস্থিতি নিয়ে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকালে এসএসকেএম হাসপাতাল (SSKM Hospital) -এর কর্মীরাই প্রথম ওই ঝুলন্ত দেহটি দেখতে পান। বিষয়টি চোখে পড়তেই দ্রুত পুলিশে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখতে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা জারি করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
অন্যদিকে, একই দিনে শহরের আর এক সরকারি হাসপাতাল আর জি কর (RG Kar Medical College and Hospital)-এ ঘটে যায় আরও এক মর্মান্তিক ঘটনা, যা ঘিরে উঠছে তীব্র সমালোচনা। সন্তানের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসা এক ব্যক্তির মৃত্যু হয় ট্রমা কেয়ার বিল্ডিংয়ের লিফটের মধ্যেই।
প্রাথমিক অনুমান, লিফট বিকল হয়ে দীর্ঘক্ষণ আটকে পড়ার জেরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়। যদিও পুরো বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন, তবুও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠছে সরকারি হাসপাতালগুলির পরিকাঠামো ও রক্ষণাবেক্ষণের বাস্তব চিত্রটা ঠিক কী?
সমালোচকদের একাংশের বক্তব্য, কোটি কোটি টাকার প্রকল্প আর উন্নয়নের দাবির মাঝেও যদি একটি হাসপাতালের লিফট পর্যন্ত ঠিকমতো কাজ না করে, তাহলে সেই উন্নয়ন কতটা বাস্তব? আরও কড়া ভাষায় কেউ কেউ বলছেন, ‘স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এই চিত্র কেবল অব্যবস্থাপনার নয়, দায় এড়ানোর সংস্কৃতির প্রতিফলন।’
একই দিনে দুটি পৃথক সরকারি হাসপাতালে এই ধরনের ঘটনা সামনে আসায় স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তি বাড়ছে। প্রশ্ন উঠছে, এটি কি নিছকই দুর্ঘটনা, নাকি এর পিছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অবহেলা ও গাফিলতির ছাপ? তদন্ত শেষেই মিলবে উত্তর, কিন্তু ততদিন পর্যন্ত এই ঘটনাগুলি রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নিয়ে বিতর্ককে আরও উসকে দেবে বলেই মনে করছে একঅংশ ।


