Aaj India Desk, নদিয়া : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপির অন্দরেই চলছে তীব্র অশান্তি। হরিণঘাটায় (Haringhata) প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই অসন্তোষ জমতে জমতে শেষ পর্যন্ত রাস্তায় নেমে পড়লেন বিজেপির দলীয় কর্মী।
প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই হরিণঘাটায় (Haringhata) বিজেপির অন্দরে অসন্তোষ জমতে শুরু করে। বুধবার সেই রাগ প্রকাশিত হয় কাস্টডাঙা বাজারে বিক্ষোভের মাধ্যমে। স্থানীয় কর্মী-সমর্থকেরা সরাসরি ঘোষিত প্রার্থী অসীম সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন এবং তাঁকে প্রার্থী হিসেবে মানতে অস্বীকার করেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, গত পাঁচ বছরে এলাকায় প্রায় দেখা যায়নি বর্তমান বিধায়ককে। ভোট নিয়ে জয়ী হলেও তিনি সাধারণ মানুষের জন্য কোনও কাজ করেননি বলেই দাবি তাঁদের। পাশাপাশি, দলীয় সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে ব্যক্তিগতভাবে কাজ করার অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। আরও গুরুতর অভিযোগ হিসেবে কিছু বিক্ষোভকারী দাবি করেন, তাঁর মদতে চাকরি দেওয়ার নাম করে দুর্নীতির মতো ঘটনাও ঘটেছে। যদিও এই অভিযোগগুলির কোনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য সামনে আসেনি।
প্ররোচনার দাবি বিজেপি প্রার্থীর
পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে অসীম সরকার পাল্টা কড়া বার্তা দেন। তিনি বলেন, “যারা বিরোধিতা করছে, তারা আমাকে নয়, মোদিজিকেই বিরোধিতা করছে। যারা হারের কথা বলছে, তারা বিজেপির ভাবমূর্তিকে ক্ষতি করছে।” তাঁর দাবি, প্রকৃত বিজেপি কর্মীরা কখনও এইভাবে রাস্তায় নামতেন না। অসীম সরকারের অভিযোগ, এই অশান্তির পেছনে তৃণমূলের প্ররোচনা থাকতে পারে। তাঁর কথায়, “ভয়ে কিছু মানুষকে টাকা দিয়ে এই ধরনের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।” তবে তিনি নিজের জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী এবং বলেন, “আগেও মানুষ আমাকে ভোট দিয়েছে, এবারও দেবে।”
তৃণমূলের পাল্টা আক্রমণ
অন্যদিকে, জেলা তৃণমূল নেতা চঞ্চল দেবনাথ এই ঘটনাকে বিজেপির অভ্যন্তরীণ সংকটের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর মন্তব্য, “দেরিতে হলেও হরিণঘাটার (Haringhata) বিজেপি কর্মীরা সত্যিটা বুঝেছেন। গত পাঁচ বছরে মানুষ তাদের বিধায়ককে পায়নি।”
নির্বাচনের আগে বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নির্বাচনের আগে বিজেপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। একইসঙ্গে, এই পরিস্থিতি তৃণমূলের পক্ষে সুবিধাজনক হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। তবে হরিণঘাটায় আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিরোধী লড়াইয়ের আগে ঘরের ভাঙনই বিজেপির সবচেয়ে বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অন্দরের সংঘাত অব্যাহত থাকলে নির্বাচনে বিজেপির সংগঠনিক শক্তি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে কিনা তা নিয়ে চলছে জল্পনা।


