Aaj India Desk, হাওড়া : বাংলার ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মনীষীদের নাম ও প্রতিকৃতি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক (political controversy) নতুন নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বারবার সেইসব মহান ব্যক্তিত্বদের ছবি বা ভাবমূর্তি ঘিরে বারংবার বিতর্ক সৃষ্টি হচ্ছে। এই বিতর্কই নতুন করে সামনে এসেছে হাওড়ার সংকরাইল এলাকায়।
সংকরাইলের দক্ষিণ দুলা হাই স্কুলের বাইরের দেওয়ালে ছাত্রছাত্রীরা কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের প্রতিকৃতি এঁকেছিল। সেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন এবং প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালামের ছবি আঁকা রয়েছে। স্থানীয় মানুষও ছাত্রদের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছিলেন।
সম্প্রতি দেখা যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবির নাকের ডগায় বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’ লেখা একটি স্টিকার লাগানো হয়েছে। ওই ছবিটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই সমালোচনার ঝড় ওঠে। বহু নেটিজেন এটিকে বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি অসম্মান বলে মন্তব্য করেছেন।
কয়েক মাস আগেই বিজেপির একাধিক নেতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘বন্দে মাতরম’ প্রসঙ্গে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। আবার অন্য একটি ঘটনায় দক্ষিণেশ্বর মন্দির প্রাঙ্গণে রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের নাম ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক (political controversy) তৈরি হয়েছিল। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রতিকৃতি বা নাম রাজনৈতিক প্রচারে ব্যবহারের বিষয়েও অতীতে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক তরজা দেখা গেছে।
ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, ছাত্রছাত্রীরা শ্রদ্ধার সঙ্গে যে প্রতিকৃতি এঁকেছে, সেখানে রাজনৈতিক স্টিকার লাগানো উচিত হয়নি। এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ এবং মনীষীদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলেই তাঁদের অভিযোগ। বিশেষত বিজেপির মত রাজনৈতিক দল যারা প্রতি মুহূর্তে হিন্দু মনীষীদের সম্মান রক্ষার দাবি করে, তাদের তরফে এই কাজ করায় রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তরজা (political controversy)।
তবে বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব এই ঘটনার দায় সরাসরি অস্বীকার করেছে। দলের তরফে জানানো হয়েছে, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং যদি কেউ ভুলবশত এমন করে থাকেন, তা ঠিক করা হবে। কারও অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল না বলেও দাবি করা হয়েছে।
রাজনৈতিক উত্তাপের আবহে এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে, মনীষীদের প্রতিকৃতি বা ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের নাম রাজনৈতিক প্রচারে ব্যবহার কতটা গ্রহণযোগ্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের সম্মান রক্ষায় সব রাজনৈতিক দলেরই সতর্ক থাকা প্রয়োজন।


