নয়াদিল্লি: প্রাণ আছে, কিন্তু জীবনের কোনও স্পন্দন নেই! গত ১৩ বছর ধরে যেন এমনই এক নিঃশব্দ যন্ত্রণা সহ্য করছিলেন ৩২ বছরের হরিশ রাণা (Harish Rana)। একসময় যিনি ছিলেন স্বপ্নভরা, মেধাবী তরুণ, আজ তিনি শুয়ে আছেন নিস্তব্ধ এক শরীরে, জীবিত থেকেও যেন জীবনের বাইরে।
পাঞ্জাব ইউনিভারসিটিতে পড়ার সময় মাত্র ২০ বছর বয়সে একটি ভবনের চতুর্থ তলা থেকে পড়ে গিয়ে মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত পান হরিশ (Harish Rana)। মৃত্যুকে হারিয়ে ফিরেছিলেন ঠিকই, কিন্তু সেই আঘাত তাঁর জীবনকে থামিয়ে দেয় এক অদ্ভুত সীমান্তে, যেখানে আছে শুধু শ্বাস-প্রশ্বাস, নেই কোনও সাড়া। চিকিৎসকদের ভাষায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই উদ্ভিজ্জ অবস্থায় (vegetative state) রয়েছেন।
চিকিৎসকদের রিপোর্ট বলছে, গত ১৩ বছর ধরে কোমায় থাকা হরিশের অবস্থার কোনও উন্নতির লক্ষণ দেখা যায়নি। এই নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েই শেষ পর্যন্ত হরিশ রাণার (Harish Rana) ক্ষেত্রে ‘মৃত্যুর অধিকার’ বা প্যাসিভ ইউথেনেশিয়ার অনুমতি দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে প্যাসিভ ইউথানেশিয়াকে বৈধতা দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। হরিশ রাণার ক্ষেত্রে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছেন বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা ও বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ।
শেক্সপিয়ার ও হেনরি ওয়ার্ড বীচারের উদ্ধৃতি দিয়ে রায় ঘোষণা করে শীর্ষ আদালত
দেশের প্যাসিভ ইউথানেশিয়া বা মৃত্যুর অধিকার সংক্রান্ত নীতি এবং আইনি দিকনির্দেশনার ক্ষেত্রে এই ঐতিহাসিক রায়দান শুরু হয় শেক্সপিয়ার ও হেনরি ওয়ার্ড বীচারের উদ্ধৃতি দিয়ে। আমেরিকান ধর্মপ্রচারক হেনরি ওয়ার্ড বীচারের উক্তি উল্লেখ করে শীর্ষ আদালতের বেঞ্চ। যেখানে বলা হয়, “God asks no man whether he will accept life. That is not a choice. You must take it. The only question is how.”
অর্থাৎ, জীবন গ্রহণ করার উপর আমাদের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। শুধুমাত্র মানুষ কীভাবে জীবনকে গ্রহণ করবে, সেটিই সে নির্ধারণ করতে পারে। সঙ্গে তারা শেক্সপিয়ার-এর প্রখ্যাত দ্বন্দ্ব “to be or not to be”-কেও উল্লেখ করেছেন। বেঞ্চ জানিয়েছে যে, জীবনের শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া কখনও কখনও আদালতের জন্যও ঠিক ততটাই কঠিন হয়ে ওঠে।
পাশাপাশি আদালত বলে, একজন চিকিৎসকের দায়িত্ব রোগীর চিকিৎসা করা। “যখন রোগীর আরোগ্য লাভের কোন আশা থাকে না তখন সেই দায়িত্বেরও কোনও অস্তিত্ব থাকে না”। আদালত জানিয়েছে, হরিশ রাণাকে প্যালিয়েটিভ কেয়ারে ভর্তির অনুমতি দেবে AIIMS। যাতে চিকিৎসা প্রত্যাহার করা যায়। “এটি নিশ্চিত করতে হবে যে এটি একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রত্যাহার করা হয়েছে যাতে মর্যাদা বজায় থাকে,” উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)।


