Aaj India desk, মহারাষ্ট্র: ঝগড়া-বিবাদে ‘মা-বোন’কে জড়িয়ে গালিগালাজ (abusive language)—ভারতের বহু জায়গায় যেন এক অঘোষিত সামাজিক অভ্যাস। রাস্তাঘাট, বাজার, এমনকি দৈনন্দিন কথাবার্তাতেও এই ধরনের শব্দ ব্যবহার অনেক সময় স্বাভাবিক বলে ধরে নেওয়া হয়। কিন্তু এই ভাষার বিরুদ্ধে এবার কড়া অবস্থান নিল মহারাষ্ট্রের একটি গ্রাম।
মহারাষ্ট্রের আহিল্যানগর জেলার শ্রীগোন্ডা তালুকের কোলগাঁও গ্রাম পঞ্চায়েত সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাশ করেছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কেউ যদি কারও মা বা বোনকে জড়িয়ে গালিগালাজ ( abusive language) করে, তাহলে তাকে ৫০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে। রবিবার অনুষ্ঠিত গ্রামসভায় এই প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়েছে।
এই বিষয়টি প্রথম উত্থাপন করেন গ্রামের বাসিন্দা পূজা জগতাপ। তিনি গ্রামসভায় বলেন, “ঝগড়ার সময় অনেকেই রাগের মাথায় মা-বোনকে জড়িয়ে গালি দেন। এতে নারীদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয় এবং সমাজে ভুল বার্তা যায়”। তাঁর বক্তব্যের পর গ্রামবাসীদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং শেষ পর্যন্ত এই নিয়ম চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জানা গেছে, কেউ এই ধরনের গালিগালাজ (abusive language) করলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা যাবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ৫০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে। সেই অর্থ গ্রাম উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করা হবে।
ভাষার মধ্যেই সমাজের মনোভাব প্রতিফলিত হয়। ‘মা-বোন’কে জড়িয়ে গালি দেওয়ার প্রবণতা শুধু ভাষার সমস্যা নয়, এটি নারীর প্রতি অসম্মানের সংস্কৃতিও তৈরি করে। বিশেষ করে শিশু, কিশোর-কিশোরী ও নারীদের উপর এর মানসিক প্রভাব পড়ে। তারা অনেক সময় অপমানিত বা নিরাপত্তাহীন বোধ করে।
শুধু ভারতেই নয়, বিশ্বজুড়েও verbal abuse বা ভাষাগত সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিভিন্ন দেশে স্কুল, কর্মক্ষেত্র ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অপমানজনক ভাষা ব্যবহার রোধে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে কোলগাঁওয়ের সিদ্ধান্ত একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। একটি গ্রামের উদ্যোগ দেখিয়ে দিল, সম্মানজনক ভাষা ব্যবহারকে সামাজিক নিয়মে পরিণত করা সম্ভব।
সমাজে নারীর মর্যাদা রক্ষার জন্য এমন উদ্যোগ যদি আরও জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে, তবে তা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। অনেকের মতে, এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে দেশজুড়েই অনুসরণ করা উচিত।


