22.4 C
Kolkata
Saturday, March 7, 2026
spot_img

জরায়ুমুখের ক্যান্সার: কতটা ভয়াবহ পরিস্থিতি? কী বলছে পরিসংখ্যান

Aaj lndia Desk, কলকাতা: বিশ্বজুড়ে নারীদের মধ্যে অন্যতম মারাত্মক রোগ জরায়ুমুখের ক্যান্সার। ভারতে এই রোগের প্রকোপ এখনও উদ্বেগজনক। বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতার অভাব এবং দেরিতে রোগ ধরা পড়ার কারণেই মৃত্যুহার বাড়ছে।

কতজন আক্রান্ত

ভারতে প্রতি বছর প্রায় ১.২ লক্ষেরও বেশি নারী জরায়ুমুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। এর মধ্যে প্রায় ৭৭ হাজার নারী মৃত্যুবরণ করেন। অর্থাৎ আক্রান্তদের একটি বড় অংশ রোগের শেষ পর্যায়ে চিকিৎসার সুযোগ পান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে ভারতে প্রায় ১,২৭,৫২৬ জন নারীর জরায়ুমুখের ক্যান্সার ধরা পড়ে, যা মহিলাদের ক্যান্সারের মধ্যে অন্যতম প্রধান।সরকারি তথ্য বলছে, ২০২৩ সালে এই রোগে প্রায় ৩৫,৬৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে দেশে।এছাড়া গবেষণায় দেখা গেছে, ভারতে বর্তমানে ৩.৪ লক্ষেরও বেশি নারী জরায়ুমুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত অবস্থায় রয়েছেন।

কেন হয় জরায়ুমুখের ক্যান্সার

ডাক্তারদের মতে এই ক্যান্সারের প্রধান কারণ হল হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (HPV) সংক্রমণ। প্রায় ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রে এই ভাইরাসই দায়ী।

উদ্বেগ জনক এই জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে টিকাকরণ কর্মসূচিকে আরও বিস্তৃত করতে উদ্যোগী রাজ্য সরকার। সেই লক্ষ্যেই সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি এ বার বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলিকেও এইচপিভি (HPV) টিকাকরণে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে নির্দিষ্ট শর্ত মেনে বেসরকারি হাসপাতাল থেকেও মিলবে এই ভ্যাকসিন, তাও সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।

তবে পরিষেবা চালু করার আগে বেসরকারি হাসপাতালগুলির জন্য একাধিক কড়া নির্দেশিকা বা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) জারি করেছে স্বাস্থ্য দপ্তর। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কাছ থেকে কোনও ধরনের ‘সার্ভিস চার্জ’ বা অতিরিক্ত ফি নেওয়া যাবে না।

নির্দেশিকায় আরও জানানো হয়েছে, এই টিকাকরণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে আগ্রহী বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে আগে সংশ্লিষ্ট জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে আবেদন জানাতে হবে। অনুমোদন মিললে সপ্তাহে সর্বোচ্চ দু’দিন টিকাকরণ শিবির চালানো যাবে।

ভ্যাকসিন সংগ্রহ থেকে সংরক্ষণ – পুরো প্রক্রিয়াতেই কড়া নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ‘কোল্ড–চেন’ ব্যবস্থা থেকে টিকা সংগ্রহ করা, সেশন শেষে ব্যবহৃত খালি ভায়াল এবং অব্যবহৃত ভর্তি ভায়াল নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ফেরত দেওয়ার দায়িত্ব থাকবে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের উপরেই। পাশাপাশি স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, খোলার চার ঘণ্টা পেরিয়ে গেলে সেই ভায়াল আর ব্যবহার করা যাবে না।

স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, কোথাও অনিয়ম ধরা পড়লে বা গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট টিকাকরণ কেন্দ্র সঙ্গে সঙ্গেই বন্ধ করে দেওয়া হবে। টিকাকরণ শুরু হওয়ার আগে সরকারি প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

এ ছাড়াও প্রতিটি টিকাকরণের তথ্য কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘ইউ-উইন’ পোর্টালে নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ রয়েছে।

নির্দেশিকায় টিকাকরণ কেন্দ্রের পরিকাঠামো নিয়েও একাধিক শর্ত আরোপ করা হয়েছে। যেখানে টিকা দেওয়া হবে, সেই কেন্দ্রে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা, হাত ধোওয়ার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা এবং টিকাকরণের পর অন্তত ৩০ মিনিট পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য আলাদা কক্ষ থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এছাড়াও জানানো হয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং ইউনিসেফের প্রতিনিধিরা যে কোনও সময়ে এই কেন্দ্রগুলি পরিদর্শন করতে পারেন। টিকাকরণ প্রক্রিয়া সঠিকভাবে চলছে কি না তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি কেন্দ্রে একজন মেডিক্যাল অফিসারের উপস্থিতিও বাধ্যতামূলক রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন