22.2 C
Kolkata
Friday, March 6, 2026
spot_img

শালীনতার সীমা পেরোচ্ছে নেতা-মন্ত্রীদের ভাষা! তবু ‘পদক্ষেপ’ অধরা— মানস ভুঁইয়ার সাম্প্রতিক অভিব্যক্তিকে কি সমর্থন করে দল?

নির্বাচনের আগে মঞ্চ কাঁপানো বক্তৃতা, কর্মী-সমর্থকদের উৎসাহিত করতে গিয়ে নেতা-মন্ত্রীদের (Politician) ভাষণে শালীনতার সীমা পেরনো এখন আম বাত। এমনকি দেশের প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রীও সেই তালিকা থেকে বাদ যান না। রাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা, বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে হওয়া সভাগুলিতে প্রায় সব বক্তব্যই এখন ভিডিওতে রেকর্ড হয় এবং দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে রাজনৈতিক ভাষণের দায়বদ্ধতা নিয়ে একটা প্রশ্ন থেকেই যায়। বিপক্ষকে দোষারোপ করা হোক, বা কোনও সামাজিক বিষয়ে মন্তব্য, জনপ্রতিনিধিদের নিজেদের ভাষা, অভিব্যক্তির বিষয়ে কি একটু সচেতন হওয়া উচিৎ না?

এই ধরনের মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরও কেন কোনও দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যায় না?

সম্প্রতি বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের মন্ত্রী এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং কেন্দ্রের বিধায়ক মানস ভুঁইয়া (Manas Bhuiyan) একটি কলেজের অনুষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে যেরূপ মন্তব্য করেছেন, তা কি শোভনীয়? ‘বকুনি’ দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘অভিভাবক’ স্থানীয়দের কি একটু শালীনতা বজায় রাখা উচিৎ নয়? এক্ষেত্রে আরও একটি বড় প্রশ্ন ওঠে, রাজনৈতিক দলের সুপ্রিমোরা কি তবে নেতা-মন্ত্রীদের এই ধরণের মন্তব্যকে সমর্থন করে?

যদি তা না হয়, তাহলে মানস ভুঁইয়ার (Manas Bhuiyan) বিরুদ্ধে এখনও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হল না কেন? তাঁর কথায় অভিভাবক হিসেবে বকুনি কম, “পাড়ার কুচুটে কাকিমা”-দের অভিব্যক্তিই অধিক জোড়াল ভাবে প্রকাশ পেয়েছে বলে মত রাজ্যের কলেজ পড়ুয়াদের একাংশের।

অধ্যাপকদের বিরুদ্ধেও তীব্র সমালোচনা

বক্তৃতার একাংশে কলেজের অধ্যাপক-অধ্যাপিকাদের কাজ নিয়েও কঠোর মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, অনেকেই নিয়মিত ক্লাস নেন না এবং টিউশনি নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। তিনি বলেন, সরকার লক্ষ লক্ষ টাকা বেতন দিলেও দায়িত্ব পালনে গাফিলতি দেখা যাচ্ছে। ভবিষ্যতে কেউ ক্লাস না নিলে বদলি নিয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।

শিক্ষকদের প্রতিক্রিয়া

কলেজের এক অধ্যাপক বলেন, মন্ত্রী কলেজের গভর্নিং বডির প্রধান হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির ভালো-মন্দের দায়িত্ব তাঁর উপরও বর্তায়। কোথাও ভুল থাকলে তা সংশোধনের চেষ্টা করা হবে। আরেকজন শিক্ষক বলেন, ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে আগের মতো সম্মান প্রদর্শনের প্রবণতা কমেছে—মন্ত্রী কিছু কথা ঠিকই বলেছেন, তবে এই ধরনের মন্তব্য কলেজের মঞ্চে বলা উচিত হয়নি।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিজেপির ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি অমূল্য মাইতি মন্ত্রীর (Manas Bhuiyan) ভাষার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “এই ধরনের ভাষা অত্যন্ত লজ্জাজনক। আমরা এর নিন্দা করছি।”

অন্যদিকে তৃণমূলের মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি মহম্মদ রফিক বলেন, মন্ত্রী একজন অভিভাবকের মতো করেই ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে কথা বলেছেন। তাঁর মতে, বিজেপি রাজনৈতিক স্বার্থে বিষয়টিকে নিয়ে অযথা বিতর্ক তৈরি করছে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন