কলকাতা: এসআইআরের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা (SIR final voter list) প্রকাশের পর এবার সরাসরি ভোটের ময়দানে নেমে পড়েছে বামেরা (CPIM)। আর কর্মসূচী, সভামঞ্চ নয়। এসআইআরে নাম বাদ ও বিবেচনাধীন-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে বুধবার রাত থেকে সিইও দফতরের সামনে ধর্নায় সেলিম, মীনাক্ষীরা। সিইও মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে দেখা না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান চালিয়ে যাবেন বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তাঁরা।
আর জি কর কান্ডের পর বামেদের এই নয়া রাতদখল নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। ধবার সন্ধ্যায় বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, পলিটব্যুরো সদস্য শ্রীদীপ ভট্টাচার্য এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী টি বোর্ডের সামনে থেকে মিছিল করে নির্বাচন কমিশনের দফতর পর্যন্ত যান। তাঁদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে বৈধ ভোটারদের নাম ভোটার তালিকা (SIR final voter list) থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাই তাঁদের দাবি, প্রথমে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হবে, তার পরেই ভোট ঘোষণার প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত।
এই দাবিতে তাঁরা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়ার কথা জানান। তবে CEO তাঁদের সঙ্গে দেখা করেননি। তাঁর পরিবর্তে অধস্তন কোনও আধিকারিকের কাছে স্মারকলিপি জমা দিতে বলা হয়। কিন্তু বাম (CPIM) নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়ে দেন, CEO ছাড়া অন্য কারও হাতে তাঁরা সেই স্মারকলিপি দেবেন না। এরপরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, দাবি না মানা হলে রাস্তায় বসেই ধর্না কর্মসূচি চালানো হবে।
বামেদের ধর্নায় তামান্নার মা
অন্যদিকে, ভোটের দামামা বাজলেই কালীগঞ্জে উপনির্বাচনে তৃণমূলের বিজয়োৎসবে মৃত খুদে তামান্না খাতুনের (Tamanna Khatun) মা মা সাবিনা ইয়াসমিনকে সিপিএমের টিকিট দেওয়ার জল্পনা তুঙ্গে। এই আবহে বামেদের ধর্নায় যোগ দেওয়ার কথা স্পষ্ট করলেন তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন।
বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, বৈধ ভোটারদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবীতে সিপিএম (CPIM) ধর্নায় বসেছে। “আমার কাছে সেলিম দা সহ দলীয় নেতৃত্বদের ফোন আসে। আমিও এই ধর্নায় যোগ দিতে চলেছি, সিইও সাহেব দেখা না করা পর্যন্ত আমরা অবস্থান চালিয়ে যাবো”। সাবিনা ইয়াসমিনের সরাসরি বামেদের ধর্নায় অংশগ্রহণ নিয়ে ‘টিকিট”-এর জল্পনা আরও দৃঢ় হচ্ছে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
ভরসাস্থল সিপিএম জানিয়েছিলেন তামান্নার মা
ছোট্ট তামান্নার (Tamanna Khatun) মৃত্যুর পর তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে শাসকদলের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছিল লাল শিবির। তৃণমূলের তরফে আর্থিক সাহায্য দিতে যাওয়া হলেও তা ফিরিয়ে দেন সাবিনা ইয়াসমিন। সাবিনা ইয়াসমিন বলেছিলেন, “জানি সিপিএম এখন ক্ষমতায় নেই। তাই হয়তো বিচার পেতে দেরি হবে। কিন্তু আমার মনে হয় এই দল গরিব মানুষের জন্য লড়ে। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে খেটে-খাওয়া, অসহায় মানুষের কথা ভাবে। অন্য দল হলে হয়তো বিচারই পেতাম না।” তাঁর বিশ্বাস এখনও পর্যন্ত ১১ জন গ্রেফতার হয়েছে, বাকিদের গ্রেফতারি ও বিচার পাইয়ে দিতে তাঁদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একমাত্র সিপিএমই লড়াই করবে।


