নয়াদিল্লি: জ্বলছে মধ্যপ্রাচ্য (Iran-Israel war)। আর এদিকে জ্বালানি সংকটের (Fuel crisis) আশঙ্কায় চিন্তার মেঘ ভারতের আকাশে। শেয়ার বাজারে ধ্বস, হুড়মুড়িয়ে নামছে টাকার দাম। একদিকে অর্থনৈতিক সংকট। অন্যদিকে হরমুজ (Hormuz) প্রণালীতে আটকে তেলের জাহাজ। কয়েকদিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে চরম জ্বালানি সংকটে পড়বে ভারত।
এই আবহে নয়াদিল্লির সাহায্যের জন্য অপেক্ষা করছে রাশিয়া। সংবাদসংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের জসসীমার আশেপাশেই ৯৫ লক্ষ ব্যারেল তেল নিয়ে ঘোরাফেরা করছে রুশ জাহাজ। ভারত চাইলেই কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সেই তেল পৌঁছে যাবে, এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছে রাশিয়া।
হরমুজে জাহাজ দেখলেই হামলা
শুধুমাত্র যুদ্ধ নয়, হরমুজ প্রণালীকে কার্যত আটকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি-সংকট (Fuel crisis) তৈরির পথে ইরান। তারা সাফ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে হাজাজ দেখলেই উড়িয়ে দেওয়া হবে। যদিও এই হুমকিতে বিচলিত নয় নয়াদিল্লি।
কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ পুরী সাফ জানিয়েছেন, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত আছে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তার প্রভাব যে পড়বে, তা বলাই বাহুল্য। কেননা, ভারতের বার্ষিক অপরিশোধিত তেলের চাহিদার ৫০ শতাংশই হরমুজ (Hormuz) প্রণালী দিয়ে আসে। সেই সঙ্গে প্রাকৃতিক গ্যাসের ৬০% ও আসে এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই।
ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক এবং ভোক্তা। আমদানির মাধ্যমে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) চাহিদার প্রায় ৮৫-৯০% পূরণ করে ভারত। পেট্রোলিয়াম পরিকল্পনা ও বিশ্লেষণ সেল (পিপিএসি) এর তথ্য অনুসারে, ভারত ২০২৫ অর্থবছরে ১১,৬০,৬১৮ কোটি টাকার অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে। ২০২৬ অর্থবছরের জানুয়ারি পর্যন্ত, অপরিশোধিত তেল আমদানি ছিল ৮,৮০,১৪৯ কোটি টাকা।
অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রতি ব্যারেল তেলের (Crude Oil) দাম ১০ ডলার বৃদ্ধি পেলে আমদানি বিল বার্ষিক প্রায় ১০,০০০-১৫,০০০ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি ভারতের আমদানি বিল বাড়িয়ে দিতে পারে, এর চলতি হিসাবের ঘাটতি বাড়িয়ে দিতে পারে, এর রাজস্ব ঘাটতির লক্ষ্যমাত্রাকে চাপ দিতে পারে, মুদ্রা দুর্বল করতে পারে, মুদ্রাস্ফীতি বাড়াতে পারে এবং বিদেশী মূলধন বহির্গমনকে ট্রিগার করতে পারে।


