Aaj India Desk, ভাঙড়: আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে অশান্ত ভাঙড় (Bhangar)। এবার ভাঙরের উত্তর কাশীপুরে উদ্ধার হলো ২৮ টি তাজা বোমা।
মঙ্গলবার রাত প্রায় ৯টা ৪০ মিনিট নাগাদ উত্তর কাশীপুর এলাকায় একটি বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। সেখানে ৩টি ড্রাম থেকে ২৮টি তাজা বোমা উদ্ধার করে পুলিশ। পাশাপাশি বোমা তৈরির বিভিন্ন উপকরণ ও একাধিক আগ্নেয়াস্ত্রও মিলেছে বলে দাবি পুলিশের।
এই ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছেন শামিম খান (১৯) ও হাকিম শেখ (২৭)। দু’জনেই ভাঙড়ের (Bhangar) বাসিন্দা। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের দাবি, অভিযুক্তরা বাড়িতেই বোমা তৈরি করছিলেন। সেই বোমা বিক্রির উদ্দেশ্য ছিল বলেও সন্দেহ তদন্তকারীদের। জিজ্ঞাসাবাদে সন্তোষজনক উত্তর না মেলায় বিজয়গঞ্জ বাজার থানায় মামলা রুজু করে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার হওয়া বোমাগুলি ইতিমধ্যেই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানা গিয়েছে।
ভোটের আগে ভাঙড়ে (Bhangar) প্রতিবারই একের পর এক বোমা উদ্ধার হয়। চলতি বছরেও তার ব্যতিক্রম দেখা যায়নি। এ প্রসঙ্গে নওশাদ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সওকত মোল্লা বলেন, “পুরো ভাঙড়ে তল্লাশি চালানোর জন্য আমরা বারবার পুলিশকে বলেছি। বিভিন্ন সূত্রে খবর ছিল অস্ত্র ও বোমা কেনাবেচা হচ্ছে।”
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে ISF জানায়, ভাঙড়ের বোমা উদ্ধারের ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা চলছে। দলের নেতৃত্বের দাবি, ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে তাদের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। দলের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা প্রশাসনের দায়িত্ব। যদি কোথাও অবৈধ অস্ত্র বা বিস্ফোরক মজুত থাকে, তবে পুলিশ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করুক।
উল্লেখ্য, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনেও ভাঙড়ে বোমাবাজি ও গুলির ঘটনা সামনে এসেছিল। বিধানসভা নির্বাচনের মুখে আবারও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিজয়গঞ্জ বাজার থানা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পুরো ঘটনার পেছনে কারা জড়িত এবং উদ্ধার হওয়া অস্ত্র-বিস্ফোরক কোথা থেকে আমদানি করা হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


