Aaj India Desk, সিমলা : গ্রামীণ পশুপালন পরিষেবা জোরদার করতে ‘পশু মিত্র’ (Pashu Mitra) নামে সহায়ক কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেয় হিমাচল প্রদেশের কংগ্রেস সরকার। এর মাসিক ভাতা নির্ধারিত হয় ৫,০০০ টাকা। কিন্তু এই চাকরির নিয়োগ সংক্রান্ত শারীরিক পরীক্ষার শর্ত ঘিরে তৈরি হয় বিতর্ক।
এই নিয়োগ প্রক্রিয়াতে শারীরিক সক্ষমতার শর্ত হিসেবে রাখা হয়েছিল ২৫ কেজির বস্তা কাঁধে নিয়ে ১০০ মিটার দৌড়। নারী-পুরুষ উভয় প্রার্থীর ক্ষেত্রেই একই নিয়ম প্রযোজ্য ছিল।
ভাইরাল ভিডিও ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত
গত ৯ ফেব্রুয়ারি মান্ডিতে ‘পশু মিত্র’ (Pashu Mitra) চাকরির শারীরিক পরীক্ষার সময় ২৫ কেজির বস্তা নিয়ে দৌড়তে গিয়ে এক তরুণী মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সেই ভিডিও ১১ ফেব্রুয়ারি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এত কম পারিশ্রমিকের চাকরির জন্য ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সী নারী প্রার্থীদের ২৫ কেজি বোঝা বহনের শর্ত আরোপকে কেন্দ্র করে বিতর্ক ক্রমশ তীব্র হয়। মহিলা সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলি শর্ত প্রত্যাহারের দাবি তোলে।
এই অবস্থায় পশুপালন দপ্তর সোমবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানায়, ২৫ কেজি ওজন বহন করে দৌড়ের শর্ত আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
কাংড়া জেলার একটি নারী উন্নয়ন সংস্থা ‘সমর্পণ অ্যাসোসিয়েশনে’র সভাপতি অনিতা শর্মা বলেন, দপ্তর শেষ পর্যন্ত “ভুল সংশোধন করেছে।” তাঁর মতে, নারী প্রার্থীদের জন্য এই শর্ত বিশেষভাবে কঠোর ছিল।
রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া
প্রাক্তন চিফ পার্লামেন্টারি সেক্রেটারি এবং পশুপালন মন্ত্রী চন্দের কুমারের পুত্র নিরাজ ভারতী ফেসবুক পোস্টে এই শর্তকে “যুবসমাজের শোষণ ও অপমান” বলে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, মাত্র পাঁচ হাজার টাকার ভাতার জন্য এ ধরনের শারীরিক পরীক্ষা অযৌক্তিক।
রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, নারীর মর্যাদা ও সম্মানের কথা বললেও বাস্তবে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকার এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অমানবিক আচরণ করেছে। শাসকদলের তরফে এখনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া মেলেনি। পাশাপাশি ‘পশু মিত্র’র (Pashu Mitra) নিয়োগ প্রক্রিয়া কবে পুনরায় শুরু হবে এবং আগের পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কী হবে, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট নির্দেশ মেলেনি। ফলে অপেক্ষায় রয়েছেন বহু প্রার্থী।


