Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: পশ্চিমবঙ্গের বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) মামলায় আজ ছিল গুরুত্বপূর্ণ শুনানি। শীর্ষ আদালত আগেই নির্দেশ দিয়েছে, রাজ্যে SIR প্রক্রিয়ায় জুডিশিয়াল অফিসারদের নিয়োগ করতে হবে, যাতে কাজ সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়। এই নির্দেশ দিতে গিয়ে সংবিধানের ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে সর্বোচ্চ আদালত (Supreme Court)।
প্রধান বিচারপতির তিন সদস্যের বেঞ্চে শুনানি
মঙ্গলবার সকাল ১০ টার কিছু পরে শীর্ষ আদালতে (Supreme Court) শুনানি প্রক্রিয়া শুরু হয়। এদিন এসআইআর (SIR) মামলা নিয়ে নয়া নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট।
ভিন রাজ্যের জুডিশিয়াল অফিসারদের নিয়োগের নির্দেশ
সময়মতো কাজ শেষ করে ২৮ ফেব্রুয়ারি যাতে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা যায়, তার জন্য দরকারে ভিনরাজ্যের আধিকারিক নিয়োগ করা হোক। এমনই নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত।
প্রয়োজনে ওড়িশা ও ঝাড়খন্ডের জুডিশিয়াল অফিসারদের নিয়োগ করতে হবে সরাসরি নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের বেঞ্চের এই নির্দেশ নিয়ে আপত্তি তোলেন রাজ্যের তরফের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সওয়াল করেছিলেন, ভিনরাজ্যের অফিসাররা বাংলা বুঝতে পারবেন না। কাজে সমস্যা হবে।
তাতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, একসময়ে পশ্চিমবাংলা সহ বিহার-উড়িষ্যা গোটা অঞ্চলে বাঙালি সংস্কৃতি চলত। সেখানকার মানুষজন বাংলায় সাবলীল। তাই কাজে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
গত শুক্রবারের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, পশ্চিমবঙ্গে SIR–এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ২৮ ফেব্রুয়ারিই প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি’ সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কলকাতা হাইকোর্টকে বর্তমান ও প্রাক্তন বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের নিয়োগের নির্দেশ দেয় সর্বোচ্চ আদালত। এই নির্দেশ জারি করতে গিয়ে সংবিধানের ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদে প্রদত্ত বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর শনিবারই তৎপরতা শুরু হয়। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক, মুখ্যসচিব, ডিজিপি সহ সংশ্লিষ্ট শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তাদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন।
সোমবার থেকে ময়দানে নেমে পড়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নিযুক্ত জুডিশিয়াল অফিসাররা। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের আবেদন খতিয়ে দেখে নিষ্পত্তি করতে হবে। এই বিশাল দায়িত্ব সামলাতে ২০০ জন জুডিশিয়াল অফিসারকে কাজে লাগানো হচ্ছে। এখন ঘড়ির কাঁটা ২৮ ফেব্রুয়ারির দিকে সেদিনই স্পষ্ট হবে গোটা ছবিটা ।


