22.9 C
Kolkata
Saturday, November 7, 2026
spot_img

তীর্থক্ষেত্র সার্কিট প্রকল্পে ১০০০ কোটি! কোন কোন মঠ-মন্দিরের সংস্কার হবে?

Aaj India Desk, কলকাতা: রাজ্যের বিভিন্ন প্রাচীন মঠ ও মন্দিরের (Temple) বেহাল অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় কোথাও মন্দিরের অংশ ভেঙে পড়েছে, আবার কোথাও আগাছা ও জঙ্গলে ঢেকে গিয়েছে প্রাচীন স্থাপত্য। এই সমস্ত মঠ-মন্দিরের সংস্কারের জন্য আগামী দু’বছরে এক হাজার কোটি টাকা খরচের ঘোষণা করলেন তিনি।

শুক্রবার নদিয়ার আড়ংঘাটায় কালীপুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গিয়ে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ‘তীর্থক্ষেত্র সার্কিট’ প্রকল্পের মাধ্যমে এই সংস্কারের কাজ করা হবে। কেদারনাথ, বদ্রীনাথ, কাশী এবং উজ্জয়িনীর মতো দেশের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানগুলিকে যেভাবে নতুন করে সাজিয়ে তোলা হয়েছে, সেই আদলেই বাংলার প্রাচীন মঠ-মন্দিরগুলিকেও সুন্দর করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্য সরকারের। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ব্যক্তিগত মালিকানাধীন সম্পত্তি বাদ দিয়ে দেবোত্তর সম্পত্তি, ট্রাস্টের অধীনে থাকা মন্দির এবং সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত প্রাচীন মন্দিরগুলির সংস্কার করা হবে।

এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে আগের তৃণমূল সরকারকেও আক্রমণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকারের আমলে সনাতন ধর্মীয় রীতি ও উৎসব পালনের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় অনেক বেশি স্বাধীনতা তৈরি হয়েছে। দুর্গাপুজোর সংখ্যাও বেড়েছে বলে দাবি করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে রাজ্যে মোট ৫৮ হাজার দুর্গাপুজো হয়েছে। পুজো কমিটিগুলিকে উৎসাহ দিতে ৬০০ কোটি টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) নিয়েও এ দিন সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের আপত্তির কারণে বাংলায় এই আইন কার্যকর করতে সমস্যা হয়েছিল। ফলে প্রায় আড়াই লক্ষ আবেদন জমে ছিল। বর্তমানে সেই আবেদনগুলির শুনানি এবং নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি। এই কাজের জন্য জেলাশাসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশ মেনে মহকুমাশাসকদের উপরেও শুনানির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু।

অন্যদিকে, রাসযাত্রা নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কেরও অবসান ঘটানোর চেষ্টা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এর আগে নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে কালীপুজো, জগদ্ধাত্রী পুজো এবং রাসযাত্রা নিয়ে পরিকল্পনার কথা বলতে গিয়ে তালিকায় রাসযাত্রার নাম বাদ পড়েছিল। তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। শুক্রবার সেই প্রসঙ্গে শুভেন্দু জানান, অনিচ্ছাকৃতভাবেই রাসযাত্রার নাম বাদ পড়েছিল। এই উৎসবকে ঘিরেও সরকারের একাধিক পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি শান্তিপুর, নবদ্বীপ এবং কোচবিহারকে সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন