Aaj India Desk, কলকাতা : সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েক সেকেন্ডের রিলস বানানোর নেশা কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে, তারই অভিযোগ উঠল খাস কলকাতায়! রিলস তৈরির নামে এক কিশোরের মাথায় হেলমেট পরিয়ে চোখ বেঁধে মারধর, জোর করে পেট্রল খাওয়ানোর চেষ্টা এবং শেষ পর্যন্ত তার গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত অর্ঘ্য সাহা-সহ তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে গড়ফা থানার পুলিশ। পাশাপাশি, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আটক করা হয়েছে দুই নাবালককেও। (Teenager Burn Attack)
পুলিশ সূত্রে খবর, গত ২৭ অক্টোবর কলকাতার হালতুর লেনিন নগর এলাকার একটি পুকুরপাড়ে ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় ওই কিশোরের সঙ্গে পাড়ার কয়েকজন যুবকের প্রায়ই ঠাট্টা-মশকরা চলত। অভিযোগ, ঘটনার দিন পুকুরপাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা ওই কিশোরকে ঘিরে ধরে অভিযুক্তরা। এরপরই শুরু হয় নির্যাতন। (Teenager Burn Attack)
প্রথমে কিশোরের মাথায় হেলমেট পরিয়ে চোখ বেঁধে দেওয়া হয়। এরপর কে মারছে, তা চিহ্নিত করতে না পারায় তার উপর মারধরের মাত্রা বাড়ানো হয়। একসময় হেলমেট খুলে ফেললে ফের ধমকানো হয় তাকে। এরপর বাইক থেকে পেট্রল বের করে জোর করে কিশোরকে খাওয়ানোর চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। সে হাত দিয়ে তা সরিয়ে দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে তার গায়ে পেট্রল ঢেলে দেওয়া হয়। এরপর এক নাবালক সহযোগীর কাছ থেকে দেশলাই নিয়ে জ্বলন্ত কাঠি তার দিকে ছুড়ে দেওয়া হয়। মুহূর্তের মধ্যেই কিশোরের জামায় আগুন ধরে যায়। (Teenager Burn Attack)
আগুন লাগতেই প্রাণ বাঁচাতে ছুটতে শুরু করে কিশোরটি। কোনওরকমে শরীর থেকে জ্বলন্ত জামা খুলে ফেলতে সক্ষম হয় সে। স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে ওই অবস্থায় দেখে দ্রুত উদ্ধার করেন এবং পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় গড়ফা থানার পুলিশ। শরীরের কিছু অংশ পুড়ে যাওয়ায় কিশোরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
তদন্তে নেমে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে, অভিযুক্ত যুবকরা নিয়মিত সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য রিলস তৈরি করত। অভিযোগ, এই নির্যাতনের ঘটনাটিও ক্যামেরাবন্দি করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, ঘটনার পর পুলিশকে যাতে নির্যাতনের কথা না জানায়, সেজন্য কিশোরকে ভয় দেখানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। তাকে বলা হয়েছিল, পুলিশকে জানাতে হবে যে রিলস তৈরির জন্যই এই ঘটনা ঘটেছে এবং কেউ তাকে নির্যাতন করেনি।
ঘটনায় খুনের চেষ্টার মামলা রুজু করেছে গড়ফা থানার পুলিশ। মূল অভিযুক্ত অর্ঘ্য সাহা-সহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি দুই নাবালককেও আটক করে ঘটনার সঙ্গে তাদের যোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য ভিডিও তৈরির নামে কীভাবে এক কিশোরের জীবন বিপন্ন করার অভিযোগ উঠল, তা নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।


