নয়াদিল্লি: শনিবার সন্ধ্যায় দিল্লির ১৮৩, সাউথ অ্যাভিনিউয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফ্ল্যাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সঙ্গে দেখা করেন ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। দু’জনের সাক্ষাতে ছিল করমর্দন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা আর আন্দোলনের পাশে থাকার বার্তা। মমতা তরুণদের লড়াইয়ের প্রশংসা করে জানান, দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁদের আন্দোলন সহজ কাজ নয়। চাইলে বাংলাতেও কর্মসূচি করতে পারে ককরোচ জনতা পার্টি। অর্থাৎ আরশোলাদের জন্য বাংলার দরজাও খুলে দিলেন তৃণমূল নেত্রী!
দীপকের কথাতেও ছিল কৃতজ্ঞতার সুর। তাঁর বক্তব্য, আন্দোলনের গোড়া থেকেই মমতা তাঁদের পাশে থেকেছেন, প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে NEET-UG প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে যন্তর মন্তরের আন্দোলন এবং সংগঠনের দুই সদস্য সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার গ্রেপ্তারির সময় পাশে দাঁড়ানোর জন্যই তিনি ধন্যবাদ জানাতে এসেছিলেন।
কিন্তু আসল চমক বিক্ষোভে যোগ দেওয়া নিয়ে। INDIA জোটের ‘ভোট চুরি’ বিরোধী কর্মসূচিকে নৈতিক সমর্থন জানালেও দীপকে স্পষ্ট করে দেন, ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) রামলীলা ময়দানের সমাবেশে যোগ দেবে না। তাঁর যুক্তি, সংগঠনটি স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ পরিচয় বজায় রাখতে চায়। ভোট চুরির বিরুদ্ধে যে সংগঠনই লড়ুক, তাদের পাশে থাকবে ককরোচরা।
এখানেই তৈরি হয়েছে কৌতূহল। সমর্থনের বার্তা, কিন্তু মিছিলে নয়! রাজনৈতিক মঞ্চের পাশে দাঁড়ানো, কিন্তু মঞ্চে ওঠা নয়! তবে কি ককরোচদের (CJP) কৌশল, সব পক্ষের সঙ্গে সৌজন্য, কারও সঙ্গেই পাকাপাকি গাঁটছড়া নয়? মমতার সঙ্গে সাক্ষাতের পর এই অবস্থান নতুন করে আলোচনায় এসেছে ঠিকই, তবে সাক্ষাতের কারণেই সিদ্ধান্ত বদলেছে, এমন কোনও প্রমাণ নেই।
আপাতত ককরোচদের বার্তা পরিষ্কার, লড়াইয়ের পাশে থাকবে, কিন্তু নিজের পরিচয় ছাড়বে না। রাজনীতির ময়দানে তাই তাদের অবস্থান: সমর্থনে হ্যাঁ, সরাসরি মিছিলে না!


