হুগলি: আর কয়েকদিন পরেই জগদ্ধাত্রী পুজো। আলোর রোশনাই, ঢাকের বাদ্যি আর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় সেজে উঠবে চন্দননগর। কিন্তু উৎসবের প্রস্তুতির মাঝেই এবার চর্চার কেন্দ্রে রাজনীতি! চন্দননগরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের (Indranil Sen) গ্রেপ্তারির পর মুখ খুললেন চন্দননগর কেন্দ্রীয় জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটির চেয়ারম্যান নিমাইচন্দ্র দাস। আর তাঁর মন্তব্য ঘিরেই নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চর্চা।
জগদ্ধাত্রী পুজো মানেই চন্দননগরের গর্ব। শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এই পুজোকে ঘিরে জড়িয়ে রয়েছে শহরের ঐতিহ্য, আবেগ এবং হাজার হাজার মানুষের অনুভূতি। কিন্তু সেই পুজোর আয়োজন ঘিরেই কি চলত প্রভাব খাটানোর চেষ্টা? ইন্দ্রনীল সেনকে (Indranil Sen) নিশানা করে এবার এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন কেন্দ্রীয় পুজো কমিটির চেয়ারম্যান।
নিমাইচন্দ্র দাসের অভিযোগ, ইন্দ্রনীল সেন মন্ত্রী থাকাকালীন একাধিকবার কেন্দ্রীয় পুজো কমিটির উপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। এমনকী, কমিটির নিয়মকানুন এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও হস্তক্ষেপ করা হয়েছিল বলে দাবি তাঁর।
পুরনো একটি ঘটনার কথা তুলে ধরে নিমাইচন্দ্র দাস বলেন, গত বছর তেঁতুলতলা বারোয়ারিকে শোভাযাত্রায় গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্রীয় কমিটি। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তেও হস্তক্ষেপ করেছিলেন তৎকালীন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন (Indranil Sen)। চেয়ারম্যানের কথায়, তখন তাঁরা চুপ করে থাকলেও মনে মনে অন্যভাবে জবাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
এরপরই কার্যত বিস্ফোরক মন্তব্য! নিমাইচন্দ্র দাসের কথায়, ‘মা জগদ্ধাত্রীর কৃপায় তিনি এবার তা পেয়ে গিয়েছেন। যদি তিনি অন্যায় করে থাকেন, তার শাস্তি তিনি পাবেন।’
শুধু শোভাযাত্রা নয়, গাইড ম্যাপ প্রকাশ নিয়েও নাকি বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল কেন্দ্রীয় পুজো কমিটিকে। চেয়ারম্যানের অভিযোগ, গাইড ম্যাপ প্রকাশ করতে গিয়ে ইন্দ্রনীল সেনের (Indranil Sen) তরফে হেনস্তার চেষ্টা করা হয়েছিল। এমনকী, জগদ্ধাত্রী পুজোর ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রাকে কার্নিভালে পরিণত করারও চেষ্টা হয়েছিল বলে দাবি তাঁর।
তবে এবার অতীতের বিতর্ক ভুলে নতুন করে পুজো আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্রীয় কমিটি। আর এই বছর শোভাযাত্রার পরিসরও বেশ বড়। জানা গিয়েছে, মোট ৭৮টি বারোয়ারি পুজোর প্রতিমা অংশ নেবে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায়। থাকবে ২৪৫টি লড়ি। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য থাকবে লাইভ স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থাও।
ভিড় সামলানো এবং দুর্ঘটনা এড়াতে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। সমস্ত পুজো কমিটিকে প্রবেশপথ ছোট এবং বেরনোর পথ বড় রাখার অনুরোধ করা হয়েছে। চুঁচুড়া, চন্দননগর ও মানকুণ্ডুর স্টেশন রোডে প্রতি বছরই বিপুল মানুষের সমাগম হয়। তাই পুলিশ প্রশাসন ও পুজো কমিটিগুলির তরফে নিরাপত্তা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থায় বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় গার্ড রেল বসিয়ে পুলিশকে আরও তৎপর হওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, বর্তমান বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহকে নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী কেন্দ্রীয় পুজো কমিটির চেয়ারম্যান। নিমাইচন্দ্র দাসের দাবি, দীপাঞ্জন তাঁদের আশ্বাস দিয়েছেন, আগামী পাঁচ বছর কোনও রাজনৈতিক রং না দেখে চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোকে আরও বড় জায়গায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন। তাঁর সঙ্গে পুজো কমিটির সহযোগিতাও ভালো বলেই জানিয়েছেন চেয়ারম্যান।


