কলকাতা: পুজোর পাস ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগে ক্রমশ বাড়ছে তদন্তের আঁচ। প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের (Indranil Sen) গ্রেপ্তারির পর এবার পুলিশের নজরে তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন। পুজো পাস জালিয়াতি মামলায় তাঁকে লালবাজারে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাস বিক্রির নামে কোটি কোটি টাকার লেনদেন, একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকার জমা পড়া, এমনই একাধিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। আর সেই সূত্রেই এবার মধুছন্দাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান গোয়েন্দারা।
উল্লেখ্য, বুধবার ইডির জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরনোর পরই ইন্দ্রনীল সেনকে (Indranil Sen) গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা। পুজোর ই-পাস সংক্রান্ত ‘মাস আর্ট’ প্রতারণা মামলায় এই পদক্ষেপ। অভিযোগ, দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো এবং ভিআইপি পাস বিক্রির নামে কোটি কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে। এই মামলায় ইন্দ্রনীলের পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী মধুছন্দার নামও উঠে এসেছে।
বউবাজার থানায় এই অভিযোগ দায়ের করেছিলেন ট্রাভেল এজেন্ট জয়দীপ মুখোপাধ্যায়। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে লালবাজার। গোয়েন্দাদের দাবি, ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পুজোর পাস বিক্রিকে কেন্দ্র করে অন্তত ৩০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলে সন্দেহ। শুধু তাই নয়, ইন্দ্রনীলের (Indranil Sen) স্ত্রী, মেয়ে এবং আত্মীয়দের নামে থাকা কয়েকটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়ার তথ্যও সামনে এসেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। সেই টাকার উৎস এবং লেনদেনের প্রকৃত উদ্দেশ্য জানতে চান তাঁরা।
তদন্তের পরিধি অবশ্য শুধু পুজোর পাসেই আটকে নেই। তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের অনুষ্ঠান এবং বইমেলার টেন্ডার নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে প্রাক্তন মন্ত্রীর (Indranil Sen) বিরুদ্ধে। সব মিলিয়ে প্রায় ১১৫ কোটি টাকার বেশি আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। পাশাপাশি, কোটি কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে ইডিও প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্টের অধীনে তদন্ত চালাচ্ছে।
এদিকে, দুর্নীতি মামলায় আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন মধুছন্দা সেন। তার মধ্যেই এবার তাঁকে তলব করল লালবাজার। তদন্তকারীরা জানতে চান, পুজোর পাস বিক্রির সঙ্গে তাঁর কোনও ভূমিকা ছিল কি না, বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়া টাকার সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ রয়েছে কি না।
ইন্দ্রনীল বর্তমানে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতে। এবার তাঁর স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তদন্তে নতুন কোনও সূত্র মেলে কি না, সেদিকেই নজর। পুজোর পাসের আড়ালে ঠিক কত টাকার লেনদেন হয়েছিল? কারা ছিলেন এই কারবারের নেপথ্যে? আর সেই আর্থিক লেনদেনে মধুছন্দার ভূমিকা কী? আপাতত এই প্রশ্নগুলির উত্তরই খুঁজছে লালবাজার। তবে মনে রাখতে হবে, সমস্ত অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে।


