Aaj India desk, কলকাতা: ২০১৬ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চালু করেছিলেন স্বাস্থ্য সাথী(Swasthaya Sathi)। বছরে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা সহায়তা মিলত এই কার্ড থাকলে। বাড়ির মহিলা সদস্যদের নামে কার্ড হতো। সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোন বাধ বিচার ছিল না। তবে নতুন সরকার এসে অনেক বিধি নিষেধ জারি করেছে। সবার আগে স্বাস্থ্য সাথীর বদলে চালু করা হয়েছে আয়ুষ্মান। তবে তার সুবিধা সকলে পাচ্ছেন না। এর মধ্যে শিক্ষকদের জন্য আবার জারি করা হলো নতুন নির্দেশ।
কি নির্দেশ দিয়েছে সরকার ?
সাধারণত শিক্ষকরা চিকিৎসা ভাতা পেয়ে থাকেন। তারপরেও অনেকেরই স্বাস্থ্য সাথী(Swasthaya Sathi) কার্ড ছিল। তার সুবিধা ও নিতেন শিক্ষকরা। পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষা দপ্তর থেকে নতুন এক নির্দেশিকা জারি করেছে। তাতে বলা হয়েছে যারা চিকিৎসা ভাতা পাওয়ার পরেও স্বাস্থ্য সাথী কার্ড রেখেছেন। তাদেরকে অবিলম্বে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড জমা দিতে হবে।সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, কোনো শিক্ষক বা সরকারি কর্মী একই সাথে রাজ্য সরকারের দেওয়া চিকিৎসার ভাতা এবং স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সুবিধা উপভোগ করতে পারেন না। দেখা গিয়েছে, শিক্ষকদের একাংশ প্রতি মাসের বেতনের সাথে যুক্ত চিকিৎসা ভাতার টাকাও নিচ্ছিলেন, আবার একই সাথে তাঁদের নামে সক্রিয় রাখা হয়েছিল স্বাস্থ্যসাথী কার্ডও। এই দ্বৈত সুবিধা বন্ধ করতেই সরকারের এই কড়া পদক্ষেপ।
শিক্ষকদের প্রতিক্রিয়া কি ?
শুধু স্বাস্থ্য সাথী(Swasthaya Sathi)কার্ড জমা দেওয়াই নয়, শিক্ষকদের মধ্যে যারা চিকিৎসা ভাতা ব্যবহার করেছেন তাদের সেই টাকা ফেরত দিতেও বলা হয়েছে। ফলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকেধ্রুবশেখর মণ্ডলের কথায়, ‘মেডিক্যাল ভাতা ও স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের সুবিধা একই সঙ্গে নেওয়াকে কোনও ভাবেই সমর্থন করি না। তবে মাসে মোটে ৫০০ টাকা মেডিক্যাল ভাতা মেলে। সেটা একেবারেই যথেষ্ট নয়। তাই আমরা বার বার সাহায্যপ্রাপ্ত ও পোষিত স্কুলের শিক্ষকদের ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিমের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছি।’ তবে বহু শিক্ষক মনে করছেন, এত বছর পর হঠাৎ করে সম্পূর্ণ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া অনুচিত ও অন্যায্য। সরকারের গাফিলতির খেসারত শিক্ষকদের কেন দিতে হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।


