Aajindia desk, কলকাতা: গতকাল ভোর রাতে অন্ধ্রপ্রদেশের ইয়ানাম উপকূলে আছড়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব(Arnab)। অন্ধ্রপ্রদেশে প্রবল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাঁচ জন মানুষ মারা গেছেন। তবে স্থল ভাগে আসার পর দ্রুত শক্তি হারিয়ে ফেলেছে অর্ণব। এখন সাধারণ নিম্নচাপ হয়ে ছত্রিশগড়ের দিকে এগোচ্ছে। তবে এর প্রভাবে এখনো বৃষ্টি হচ্ছে। গতকাল অন্ধপ্রদেশে আজকে পড়ার পর বিশাখাপত্তনমে ৩১৫ মিলিমিটার, বিজয়নগরম ও শ্রীকাকুলামসহ ওড়িশার কোরাপুট (১৮৮ মিলিমিটার) ও গঞ্জাম জেলায় ব্যাপক ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে কতটা প্রভাব পড়বে?
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের(Arnab) প্রভাব পশ্চিমবঙ্গে খুব একটা পড়েনি। কেবলমাত্র মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এলাকা কাঁথিতে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম বর্ধমানের অধিকাংশ জায়গায় হালকা থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। কলকাতায় আজ সকাল থেকেই ঝিরিঝিরি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে আকাশ সারাদিন মেঘলা থাকবে। দফায় দফায় বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুতের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া উপকূলবর্তী এলাকায় ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। ৩০ ও ৩১ অক্টোবরের দিকে বৃষ্টির পরিমাণ অনেকটাই কমে আসবে।
সতর্কতা কি নেওয়া হচ্ছে?
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের(Arnab) জন্য আগেই কাকদ্বীপে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। দীঘা, মন্দারমণি, শঙ্করপুর, গঙ্গাসাগর, বকখালি ও মৌসুমী দ্বীপে সমুদ্র উত্তাল থাকায় পর্যটক ও সাধারণ মানুষের সমুদ্রে নামার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। মৎস্যজীবীদেরও মাছ ধরতে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। সুন্দরবনের নদী তীরবর্তী রুটগুলোতে পরিস্থিতি বুঝে ফেরি পরিষেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাকদ্বীপসহ উপকূল এলাকায় এনডিআরএফ (NDRF) মোতায়েন করা হয়েছে এবং মাইকে লাগাতার প্রচার চলছে।তবে ঝড়ের প্রভাবে বাঁকুড়ার বিভিন্ন এলাকায় পাকা আমন ধান জমিতে লুটিয়ে পড়েছে। যার ফলে কৃষকদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


