Aaj India Desk, অমরাবতী: অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী এলাকায় ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের (Arnab) প্রভাব কিছুটা কমেছে। মৌসম ভবনের (IMD) এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়ের (Cyclone) স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে। তবে ঝড়ের প্রভাব এখনও পুরোপুরি কাটেনি। মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে উপকূলের বিভিন্ন এলাকায়। কাঁকিনাড়া জেলায় পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। সমুদ্রের জল উপকূল পেরিয়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে। জলমগ্ন হয়েছে বহু রাস্তা, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একাধিক বাড়ি।
ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এক বাসিন্দা নিজের দুরবস্থার কথা জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, “এই ঘূর্ণিঝড় আমাদের সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। আমাদের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন গায়ে যে পোশাক রয়েছে, সেটুকু ছাড়া আমাদের কাছে আর কিছুই নেই।” পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে সরকারের সাহায্য চেয়েছেন তিনি। তাঁর আবেদন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়ে আর্থিক সহায়তা দিক প্রশাসন, যাতে তাঁরা নতুন করে জীবন শুরু করতে পারেন।
একাধিক জেলায় প্রবল বৃষ্টি
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের বিস্তীর্ণ অংশে বৃষ্টির জেরে জল জমেছে। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার ভোর ৫টা পর্যন্ত বিশাখাপত্তনমে (Visakhapatnam) ২১৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। কলিঙ্গপত্তনমে (Kalingapatnam) বৃষ্টির পরিমাণ ১৪৭ মিলিমিটার। কাঁকিনাড়ায় (Kakinada) ১১৮ মিলিমিটার এবং মছলিপত্তনমে (Machilipatnam) ১১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এ ছাড়াও আনাকাপল্লি, কোনাসীমা, পূর্ব গোদাবরী, পশ্চিম গোদাবরী, এলুরু, এনটিআর এবং কৃষ্ণা জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে। ফলে নিচু এলাকাগুলিতে জল জমে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র বা চোখ স্থলভাগে প্রবেশ করলেও আবহাওয়ার পরিস্থিতি এখনই স্বাভাবিক হচ্ছে না। অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওডিশায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। দুই রাজ্যেই জারি রয়েছে লাল সতর্কতা। তাই উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে, ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের পরোক্ষ প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতেও আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে পারে। আকাশ মেঘলা থাকার পাশাপাশি ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।
ছত্তিশগড়েও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস
ঘূর্ণিঝড়টি ছত্তিশগড়ের দিকে এগিয়ে যাওয়ায় সেখানেও আবহাওয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বস্তার-সহ রাজ্যের কয়েকটি জেলায় বুধবার ও বৃহস্পতিবার ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ছত্তিশগড় সরকার সব জেলার প্রশাসনকে সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি, বিপর্যস্ত মানুষকে দ্রুত সাহায্য করার জন্য ২৪ ঘণ্টা ত্রাণশিবির চালু রাখার ব্যবস্থাও করতে বলা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের মূল ধাক্কা কিছুটা কমলেও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে স্বাভাবিক জীবন ফেরানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে যাঁদের বাড়িঘর ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হয়েছে, তাঁদের পুনর্বাসন এবং আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


