Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : ডিজিটাল ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন (DPDP Act) নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ ডিজিটাল নিউজ পাবলিশার্স অ্যাসোসিয়েশন (DNPA)। সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে রয়েছে মোদীর ঘনিষ্ঠ রিলায়েন্স ও আদানি গোষ্ঠীর মতো বড় কর্পোরেট সংস্থাগুলি। এই আইনের কয়েকটি বিধান সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, অনুসন্ধানমূলক সাংবাদিকতা এবং সংবাদসূত্রের গোপনীয়তার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রকাশকরা।
আইনের মূল উদ্দেশ্য নাগরিকদের ব্যক্তিগত ডিজিটাল তথ্য সুরক্ষিত রাখা। কিন্তু সংবাদমাধ্যমের বক্তব্য, ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারে সম্মতি, সম্মতি প্রত্যাহার এবং তথ্য মুছে ফেলার বিধান সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করতে পারে। দুর্নীতি, অনিয়ম কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে প্রতিবেদন তৈরির সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুমতি নেওয়া সব ক্ষেত্রে সম্ভব নয়। তাতে অনুসন্ধানমূলক সাংবাদিকতা বাধার মুখে পড়তে পারে।
সংবাদসূত্রের গোপনীয়তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। গোপন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের সূত্র ধরে সাংবাদিক বা তথ্যদাতার পরিচয় প্রকাশের ঝুঁকি তৈরি হলে জনস্বার্থে সংবাদ প্রকাশ কঠিন হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি, আইনে নির্দিষ্ট লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান সংবাদ প্রকাশকদের উপর আর্থিক চাপ বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা।
এখানেই প্রশ্ন উঠছে কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষার আশ্বাস দেওয়া হলেও, বিতর্কিত বিধানগুলির সংশোধন বা সাংবাদিকতার জন্য কার্যকর সুরক্ষা কতটা নিশ্চিত হয়েছে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। রিলায়েন্স ও আদানি গোষ্ঠীর মতো বড় কর্পোরেট সংস্থার এই আইনি পদক্ষেপ বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে অনেকের মতেই এই মামলা কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কর্পোরেট বিদ্রোহ কিংবা এলন মাস্কের মতো আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীদের সমালোচনার ফল।
সব মিলিয়ে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্নে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আদানি-আম্বানির এমন পদক্ষেপ প্রকৃত সংস্কারের ইঙ্গিত দিচ্ছে, নাকি কেবল সাময়িকভাবে অসন্তোষ প্রশমনের চেষ্টা করছে তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। তবে DNPA-র মামলায় আদালত কী অবস্থান নেয় এবং কেন্দ্রও বিতর্কিত বিধানগুলি নিয়ে কী পদক্ষেপ নেয় সেদিকেই থাকবে নজর।


