Aaj India Desk, কলকাতা: রাজ্যে পুরভোটের (Municipal Elections) আবহে নিউ আলিপুরের (New Alipore) একটি ক্যাফেতে দুই ভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরের নেতার সাক্ষাৎ ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। একদিকে তৃণমূল নেতা স্বরূপ বিশ্বাস (Swarup Biswas), অন্যদিকে বিজেপি নেতা সুমন বন্দ্যোপাধ্যায় (Suman Bandyopadhyay)। তাঁদের একসঙ্গে কফি খাওয়ার মুহূর্তের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে, স্বরূপের পা ছুঁয়ে সুমনের প্রণাম এবং পরে দু’জনের বিজয়ার কোলাকুলি নিয়ে আলোচনা বেড়েছে।
ক্যাফের CCTV ফুটেজে ধরা পড়ল কোন দৃশ্য?
প্রকাশ্যে আসা সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, নিউ আলিপুরের (New Alipore) ওই ক্যাফেতে স্বরূপ বিশ্বাসের (Swarup Biswas) সঙ্গে দেখা করেন সুমন বন্দ্যোপাধ্যায় (Suman Bandyopadhyay)। সাক্ষাতের সময় স্বরূপের পা ছুঁয়ে প্রণাম করতে এগিয়ে যান বিজেপি নেতা। এরপর দু’জনের মধ্যে হয় বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় এবং কোলাকুলি। পুরভোটের ঠিক আগে এমন দৃশ্য সামনে আসায় এই সাক্ষাতের তাৎপর্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এটি কি নিছক ব্যক্তিগত সৌজন্য, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে, তা নিয়েই জল্পনা।
কী বললেন সুমন, স্বরূপের প্রতিক্রিয়া কোথায়?
সুমন বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Suman Bandyopadhyay) দাবি, এই সাক্ষাতের সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই। স্বরূপ বিশ্বাসই (Swarup Biswas) তাঁকে কফি খাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। সেই আমন্ত্রণ পেয়েই তিনি ক্যাফেতে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে, এই ঘটনা নিয়ে স্বরূপ বিশ্বাসের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।
বিজেপির (BJP) প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার (Debjit Sarkar) বলেন, “এই বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। এটা তো ভারতীয় পরম্পরা। ব্যক্তি স্বাধীনতা, কে কী করবে।”
তৃণমূলের (TMC) কটাক্ষে বাড়ল রাজনৈতিক উত্তাপ
এই সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে বিজেপিকে (BJP) নিশানা করেছেন তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় (Baishwanar Chatterjee)। তাঁর বক্তব্য, এত দিন বিজেপি স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে টাকা তোলা এবং মহিলাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলেছিল। তাঁর দাবি, স্বরূপের বাড়িতে ৭২ ঘণ্টা ধরে তল্লাশির পর বিজেপি নেতার তাঁকে প্রণাম করার দৃশ্য রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
বৈশ্বানরের কটাক্ষ, “এরা বিজেপির কাছে আত্মসমর্পণ করে দিয়েছে। এদের অবস্থা খুব করুণ হবে। এরা কতটা নিচে নামতে পারে মানুষ শুধু দেখুন।”
সব মিলিয়ে, পুরভোটের আগে স্বরূপ বিশ্বাস (Swarup Biswas) ও সুমন বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Suman Bandyopadhyay) এই সাক্ষাৎ ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। সুমন একে সৌজন্য সাক্ষাৎ বললেও, ঘটনাটি নিয়ে দুই শিবিরের বক্তব্যে বিতর্ক আরও বেড়েছে।


