SPECIAL FEATURE
সন্দীপ ঘোষের জামিনে ক্ষোভ, তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন, ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি। যে আর জি কর কাণ্ডের ন্যায়বিচারের দাবিকে সামনে রেখেই রাজনীতির ময়দানে এসেছেন অভয়ার (Abhaya) মা, সেই বিচারই কি এবার তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা?
সরকার বদলেছে, ক্ষমতায় এসেছে নতুন রাজনৈতিক শিবির। কিন্তু আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের (Abhaya) ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় ন্যায়বিচারের দাবি ঘিরে প্রশ্ন এখনও ফুরোয়নি। হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় জামিনের পর সেই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। নির্যাতিতার বাবা শেখর দেবনাথের বক্তব্য, মেয়ের বিচারের দাবিতে প্রয়োজনে নিজেদের সরকারের বিরুদ্ধেও পথে নামবেন তাঁরা।
এই বক্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, অভয়ার (Abhaya) পরিবারের লড়াই এখন শুধু আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে সরকারের প্রতিশ্রুতি, প্রশাসনের জবাবদিহি এবং রাজনৈতিক অবস্থানের বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন।
সন্দীপ ঘোষের জামিন নিয়ে ক্ষোভের অন্যতম কারণ বিচারপ্রক্রিয়ার গতি। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছিল, ১৪৭ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র সাত জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। দীর্ঘদিন হেফাজতে থাকা এবং বিচারপ্রক্রিয়ার অগ্রগতির বিষয়টি বিবেচনা করেই আদালত জামিন মঞ্জুর করে। তবে জামিন মানেই অভিযুক্ত নির্দোষ প্রমাণিত হওয়া নয়। একইভাবে, এই সিদ্ধান্তকে তদন্তের ব্যর্থতার চূড়ান্ত প্রমাণ বলাও ঠিক হবে না।
অভয়ার (Abhaya) মায়ের বিজেপিতে যোগদান এবং বিধায়ক হওয়া তাঁর লড়াইকে নতুন রাজনৈতিক পরিচয় দিয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদল হলেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয় না। যে দল বিরোধী অবস্থানে থেকে বিচারের দাবি তুলেছিল, ক্ষমতায় আসার পর সেই প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
আগামী ১২ নভেম্বর ‘ভয়েস অফ অভয়া’ ও ‘ভয়েস অফ উইমেন’ পথে নামার ডাক দিয়েছে। এই কর্মসূচি নতুন করে আন্দোলনের আবহ তৈরি করতে পারে।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা অভয়ার (Abhaya) মা রাজনীতিতে এসে লাভবান হলেন, নাকি ঠকলেন, তা নয়। আসল প্রশ্ন, যে ন্যায়বিচারের আশায় একটি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে লড়ছে, সেই বিচার নিশ্চিত করতে সরকার কতটা কার্যকর ভূমিকা নেয়। আর সেই ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে, রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে জবাব চাওয়ার জায়গা কতটা অক্ষুণ্ণ থাকে?


