31.3 C
Kolkata
Saturday, October 10, 2026
spot_img

যন্তর মন্তরে ‘যুদ্ধং দেহি’ প্রস্তুতি! আটক কয়েকশো, প্রস্তুত অস্থায়ী ডিটেনশন সেন্টার!

Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : একদিকে যখন মহালয়ার ভোরে মানুষ মেতে উঠেছেন আনন্দে, সেখানেই অন্যদিকে রাজধানীতে সম্পূর্ণ অন্য আবহ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রত্যাহারের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলির প্রস্তাবিত বিক্ষোভ (Delhi Protest) ঘিরে শনিবার, ১০ অক্টোবর, কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে দিল্লির যন্তর মন্তর ও সংলগ্ন এলাকা। বিক্ষোভের অনুমতি না দেওয়ায় সকাল থেকেই ধরপাকড় শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। একাধিক এলাকায় বিক্ষোভকারীদের আটক করা হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অস্থায়ী আটক কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি রাজধানীজুড়ে বাড়ানো হয়েছে পুলিশি নজরদারি।

শনিবার সকাল পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১০০০ জনকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। শুক্রবার রাত থেকে চালানো প্রতিরোধমূলক অভিযানে অপরাধের পূর্ব ইতিহাস রয়েছে বলে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদেরও আটক করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, সম্ভাব্য অশান্তি এড়াতেই এই পদক্ষেপ। তবে আটক ব্যক্তিদের অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা যায়নি। দিল্লি পুলিশের অনুমান, বিক্ষোভে (Delhi Protest) প্রায় ৭,০০০ মানুষ যোগ দিতে পারেন। সেই আশঙ্কায় যন্তর মন্তর ও আশপাশের রাস্তায় একাধিক স্তরে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। ড্রোনের সাহায্যে নজরদারির পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ ও আধাসেনা।

যন্তর মন্তরের পাশাপাশি সংসদ মার্গ, অশোকা রোড, তলস্তয় রোড এবং কনট প্লেসের সংযোগকারী রাস্তাগুলিতে কড়া নজরদারি চলছে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বসানো হয়েছে একাধিক ব্যারিকেড। পুলিশকর্মীদের বডি ক্যামেরা ব্যবহার করতেও দেখা গিয়েছে। লাউডস্পিকারে নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত ঘোষণা করা হচ্ছে এবং বিক্ষোভস্থলের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করা ব্যক্তিদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজধানীর একাধিক এলাকায় বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। কিছু অংশে ইন্টারনেট পরিষেবায় নিয়ন্ত্রণ, মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা এবং দিল্লিগামী ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। (Delhi Protest)

ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) ১০ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে যন্তর মন্তরে জমায়েতের ডাক দিয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রত্যাহারই তাদের প্রধান দাবি। দিল্লি পুলিশ অবশ্য নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি। বিক্ষোভের বিকল্প স্থান হিসেবে রামলীলা ময়দানে কর্মসূচি সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, সেখানে সভা করার জন্য কোনও আবেদন জমা পড়েনি বলে পুলিশ জানিয়েছে।

একদিকে বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আহ্বান, অন্যদিকে পুলিশের ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা—দুইয়ের জেরে শনিবার সকাল থেকেই রাজধানীর পরিস্থিতির দিকে নজর রয়েছে। বিক্ষোভ শেষ পর্যন্ত কতটা বড় আকার নেয় এবং পুলিশ কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন