Aaj India Desk , কলকাতা : মহালয়ার পুণ্যতিথিতে (Mahalaya Tarpan) পূর্বপুরুষদের স্মরণ করে তর্পণ করেন বহু মানুষ। জল, কালো তিল ও কুশের সাহায্যে এই ধর্মীয় আচার পালনের মাধ্যমে প্রয়াত পিতৃপুরুষদের আত্মার শান্তি ও তৃপ্তি কামনা করা হয়। তবে তর্পণের নিয়ম, উপকরণ ও মন্ত্রের ক্ষেত্রে পারিবারিক ঐতিহ্য এবং আঞ্চলিক রীতির পার্থক্য রয়েছে।
কী এই মহালয়ার তর্পণ?
হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, পিতৃপক্ষের শেষ দিন সর্বপিতৃ অমাবস্যায় পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণ করা হয়। ‘তর্পণ’ শব্দের অর্থ তৃপ্ত করা। এই আচারকে কেন্দ্র করে প্রয়াত আত্মীয়দের স্মরণ, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাঁদের শান্তি কামনা করা হয়। দেবতা, ঋষি, যম, ভীষ্ম এবং পিতৃ-মাতৃসহ পূর্বপুরুষদের উদ্দেশেও বিভিন্ন রীতিতে তর্পণ করা হয়। (Mahalaya Tarpan)
কখন এবং কোথায় করবেন তর্পণ?
প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, মহালয়ার দিন সকালে তর্পণ করা হয়। গঙ্গা বা অন্য কোনও পবিত্র জলাশয়ে এই আচার পালনের রীতি রয়েছে। তবে সেখানে যাওয়া সম্ভব না হলে বাড়িতেও শুদ্ধ জল দিয়ে তর্পণ করা যায়। কোন সময়ে এবং কীভাবে আচারটি পালন করা হবে, তা নিয়ে পারিবারিক প্রথা অনুসরণ করাই শ্রেয়।
কী কী উপকরণ প্রয়োজন?
তর্পণের জন্য সাধারণত প্রয়োজন হয় শুদ্ধ জল বা গঙ্গাজল, কালো তিল এবং কুশ। কোনও কোনও পারিবারিক রীতিতে তুলসীপাতা, চন্দন, সাদা ফুল ও অন্যান্য উপকরণও ব্যবহার করা হয়। আচারভেদে উপকরণের পরিবর্তন হতে পারে। (Mahalaya Tarpan)
তর্পণের আগে কী কী নিয়ম মানবেন?
প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী, তর্পণের আগে স্নান করে পরিষ্কার পোশাক পরা হয়। পৈতে ধারণকারীদের ক্ষেত্রে পৈতের অবস্থানও আচারভেদে পরিবর্তিত হয়। দেবতা ও ঋষিদের উদ্দেশে তর্পণ এবং পিতৃপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণের দিক ও পদ্ধতি এক নয়। সাধারণত পিতৃ তর্পণের ক্ষেত্রে দক্ষিণমুখী হওয়ার রীতি রয়েছে।
কীভাবে করা হয় তর্পণ?
প্রচলিত পদ্ধতিতে প্রথমে আচার শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এরপর নির্দিষ্ট বিধি অনুসারে দেবতা, ঋষি এবং অন্যান্য উদ্দেশ্যে তর্পণ করে শেষে পিতৃপুরুষদের উদ্দেশে জল নিবেদন করা হয়। পিতৃ তর্পণের সময় কালো তিল মেশানো জল ব্যবহার করা হয়। পরিচিত পূর্বপুরুষদের নাম ও গোত্র জানা থাকলে তা উচ্চারণ করে তাঁদের উদ্দেশে জল দেওয়া হয়। তর্পণের মন্ত্র ও ধাপ অঞ্চল, পরিবার এবং ধর্মীয় সম্প্রদায়ভেদে আলাদা হতে পারে।
মহিলারা কি তর্পণ করতে পারেন?
মহিলাদের তর্পণ করার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পারিবারিক ও ধর্মীয় প্রথায় ভিন্নতা রয়েছে। কিছু প্রথায় পুত্র না থাকলে কন্যা বা পরিবারের অন্য সদস্যদের তর্পণ ও পিণ্ডদানের দায়িত্ব পালনের নজির রয়েছে। তাই এ ক্ষেত্রে কোনও একটিমাত্র রীতিকে সর্বজনীন বলে ধরে না নিয়ে পারিবারিক ঐতিহ্য ও সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় বিধি সম্পর্কে জেনে নেওয়া প্রয়োজন।
পিণ্ডদান ও দানের প্রথা
তর্পণের পাশাপাশি কিছু পরিবারে পিণ্ডদান এবং দানের রীতিও প্রচলিত। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, পূর্বপুরুষদের স্মরণে অভাবী মানুষকে খাদ্য বা প্রয়োজনীয় সামগ্রী দান করা হয়। কোথাও কোথাও পশুপাখিকে খাদ্য দেওয়ার প্রথাও রয়েছে।
গঙ্গা বা কোনও জলাশয়ে যাওয়া সম্ভব না হলে বাড়িতে শুদ্ধ জল দিয়ে তর্পণ করার রীতি রয়েছে। মহালয়ার তর্পণ বাঙালির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনের একটি পরিচিত আচার। পিতৃপক্ষের সমাপ্তি এবং দেবীপক্ষের সূচনার এই সময়ে পূর্বপুরুষদের স্মরণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বহু মানুষ। তর্পণের মূল তাৎপর্য পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা ও স্মরণ হলেও, আচার পালনের পদ্ধতি পরিবার ও অঞ্চলভেদে আলাদা হতে পারে।


