Aaj India Desk, কলকাতা: নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে (Nandigram ByElection) প্রথমে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল মমতা তৃণমূল (TMC)। কিন্তু ভোটের লড়াই থেকে শেষ পর্যন্ত সরে দাঁড়ান দলের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে। অন্যদিকে, রেজিনগরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসকে পিছনে ফেললেও মমতা তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোট মাত্র ৩,৮৩৩। নন্দীগ্রামে লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে বিজেপির জয়ের পাশাপাশি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত রেজিনগরেও ৭৫ হাজারের বেশি ভোটে জয় পেয়েছে গেরুয়া শিবির।
উপনির্বাচনের ফল প্রকাশের পর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, “নির্বাচন হয়েছে নাকি? যে বলব? ঠিক করে ছাপ্পাও দিতে পারে না। পুলিশকে দিয়ে ভোট করালে এ রকমই হয়। যে বুথে ৭০০ ভোট, সেখানে ৯০০-র বেশি ভোট পড়েছে।”
নন্দীগ্রামে নিজেদের প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর কংগ্রেসকে সমর্থনের কথা জানিয়েছিল মমতা তৃণমূল। শেষ পর্যন্ত ওই কেন্দ্রে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। কিন্তু রেজিনগরের ছবিটা একেবারেই আলাদা। সেখানে প্রথমবার ফুটবল প্রতীকে ভোটে লড়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে মমতা তৃণমূল। কংগ্রেসের পর চতুর্থ স্থানে শেষ করেছে তারা। তবে কিছুটা স্বস্তি বলতে, রেজিনগরে মমতা তৃণমূলের থেকেও কম ভোট পেয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের স্থান হয়েছে ষষ্ঠ।
নন্দীগ্রামে প্রার্থী সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি সামনে রেখে ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ থাকলেও রেজিনগরের ফল নিয়ে মমতা শিবিরের উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই কেন্দ্রে কেন ভোটারদের বড় অংশ তাদের পাশে দাঁড়ালেন না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, মাত্র চার মাস আগের বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগরে ৪১ হাজার ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে ছিল তৃণমূল। কিন্তু দলীয় ভাঙন এবং প্রতীক বদলের মতো একাধিক সমস্যার মধ্যেই এবার লড়াইয়ে নামে মমতা শিবির। জয়ের আশা না থাকলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামের উপর ভরসা করে কিছুটা ভালো ফলের প্রত্যাশা ছিল তাদের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই আশাও পূরণ হয়নি। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত রেজিনগরে মমতা তৃণমূলের প্রার্থী জামানতও রক্ষা করতে পারেননি।
আরও চিন্তার বিষয়, মমতা তৃণমূলের দিকে আসতে পারে বলে যে ভোটের আশা করা হয়েছিল, তার একটা বড় অংশ বিজেপির ঝুলিতে গিয়েছে। একসময় যে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক তৃণমূলের অন্যতম বড় শক্তি ছিল, ক্ষমতা হারানোর পর সেই ভোটারদের সমর্থন কেন কমছে, এবার সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।


