Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: শনিবারের প্রতিবাদ (Protest) কর্মসূচিকে ঘিরে দিল্লির পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এই কর্মসূচির আগে রাজধানীতে প্রশাসনের একাধিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) দ্বারস্থ হয়েছে সিপিএম (CPM)। শুক্রবার দলের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি দিল্লি প্রশাসনের কড়াকড়ির আইনি বৈধতা নিয়ে শীর্ষ আদালতে মামলা করেছেন। এই মামলায় তাঁর হয়ে সওয়াল করার কথা রয়েছে বিশিষ্ট আইনজীবী কপিল সিবালের।
শনিবার দিল্লিতে বড়সড় রাজনৈতিক জমায়েত হওয়ার কথা। তার আগেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন। প্রতিবাদ কর্মসূচির কারণে রাজধানীতে যানজট এবং বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে, এই আশঙ্কায় একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে হাওড়া ও শিয়ালদহ থেকে দিল্লিগামী রাজধানী এক্সপ্রেস-সহ কয়েকটি দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি, শনিবার যন্তর মন্তরে জমায়েতের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে কয়েকটি মেট্রো স্টেশনও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পূর্ব রেল সূত্রে খবর, আগামী ১০ অক্টোবর নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশন এলাকায় প্রচুর মানুষের ভিড় হতে পারে। সেই ভিড় সামলানো এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই ট্রেন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে রেলের তরফে জানানো হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় এই সিদ্ধান্তের কথা সামনে আসতেই পশ্চিমবঙ্গ থেকে দিল্লি যাওয়ার পরিকল্পনা করা যাত্রীরা সমস্যায় পড়েছেন।
এদিকে, দিল্লির নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে মেট্রো চলাচলের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। মধ্য দিল্লির দিকে যাতায়াতের পথে প্রায় ৫৭টি মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে দিল্লি পুলিশের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশে রাজধানীতে ২৬ হাজারেরও বেশি সিএপিএফ কর্মী মোতায়েনের কথা জানা গিয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর, ছত্তিশগড় এবং পশ্চিমবঙ্গ-সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে অতিরিক্ত বাহিনী আনা হয়েছে।
প্রশাসনের এই পদক্ষেপ নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্ন উঠেছে। তাদের অভিযোগ, যন্তর মন্তরে প্রতিবাদে মানুষের যোগদান আটকাতেই আগেভাগে ট্রেন, মেট্রো এবং ইন্টারনেট পরিষেবার উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। যদিও রেলের দাবি, স্টেশনে অতিরিক্ত ভিড় এড়ানো এবং যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই বলেও জানিয়েছে রেল।
এখন শনিবারের প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে দিল্লির পরিস্থিতি কোন দিকে যায় এবং প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে সিপিএমের করা মামলায় সুপ্রিম কোর্ট কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।


