31.3 C
Kolkata
Thursday, October 8, 2026
spot_img

সাধারণ জীবনযাপন, মানুষের পাশে থাকা নানা পাটেকরকে নিয়ে কী বললেন মিঠুন?

Aaj India Desk, কলকাতা : হঠাৎ শরীর খারাপ। তারপর দ্রুত অবনতি। চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও আর ফেরানো গেল না বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকরকে (Nana Patekar)। বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ভোররাতে গোয়ায় মৃত্যু হয়েছে অভিনেতার। বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তাঁর প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই চলচ্চিত্র মহলে নেমে এসেছে শোকের আবহ।

গোয়ায় বাড়িতেই অসুস্থ হয়ে পড়েন অভিনেতা

দীর্ঘদিন ধরে মুম্বইয়ের ব্যস্ত জীবন থেকে কিছুটা দূরে থাকতেন নানা। গোয়ায় নিজের বাড়িতে সময় কাটাতেন। কাজের প্রয়োজনে অবশ্য মুম্বইয়ে যাতায়াত ছিল তাঁর। বুধবার রাতে আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন অভিনেতা। বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করার পর পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে।

খবর পেয়ে তাঁর বাড়িতে পৌঁছয় মেডিক্যাল টিম। সেখানে অচেতন অবস্থায় অভিনেতাকে পাওয়া যায়। চিকিৎসকরা তৎক্ষণাৎ প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করেন এবং CPR দেওয়া হয়। পরে তাঁকে ডোনা পাওলা (Dona Paula)-র একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

এক ছবিতে অভিনয়, বন্ধুত্ব সারাজীবনের

নানা পাটেকরের সঙ্গে মিঠুন চক্রবর্তীর (Mithun Chakraborty) সম্পর্ক ছিল শুধুমাত্র সহ-অভিনেতার নয়। দু’জনে একসঙ্গে কাজ করেছিলেন ‘সাগর সঙ্গম’ (Sagar Sangam) ছবিতে। সেই কাজের সূত্রেই তাঁদের পরিচয় আরও গভীর হয়। পরবর্তীতে দু’জনের মধ্যে তৈরি হয় ব্যক্তিগত বন্ধুত্বও।

এই মুহূর্তে আলিপুরদুয়ারে রয়েছেন মিঠুন। সেখান থেকেই বন্ধুর মৃত্যুর খবরে নিজের অনুভূতি জানিয়েছেন তিনি। নানা তাঁর অত্যন্ত কাছের মানুষ ছিলেন বলেই জানান মিঠুন।

‘তারকার মতো থাকতেন না’, বন্ধুকে মনে করে আবেগপ্রবণ মিঠুন

নানাকে স্মরণ করতে গিয়ে তাঁর জীবনযাপনের ধরন নিয়েও কথা বলেছেন মিঠুন। তাঁর কথায়, বিপুল জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও নানা নিজেকে কখনও তারকা হিসেবে তুলে ধরতেন না। পোশাক-পরিচ্ছদ থেকে দৈনন্দিন জীবন—সবেতেই ছিল সাধারণ মানুষের ছাপ।

মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রেও নানা যে যথেষ্ট সক্রিয় ছিলেন, সেটাও মনে করিয়ে দিয়েছেন মিঠুন। বিশেষ করে মহারাষ্ট্রের কৃষকদের জন্য তাঁর কাজের কথা উল্লেখ করে বন্ধুর অবদানকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তিনি।

নানার রাগ নিয়ে কী বললেন মিঠুন?

নানা পাটেকরের ব্যক্তিত্বের অন্যতম আলোচিত দিক ছিল তাঁর মেজাজ। রাগের কারণে তাঁকে নিয়ে একাধিকবার বিতর্কও তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে নানা নিজেই স্বীকার করেছিলেন, রাগ সামলানো তাঁর কাছে সহজ ছিল না। উত্তেজিত হয়ে পড়লে নিজের আচরণের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখা কঠিন হয়ে যেত বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

তবে বন্ধুর এই স্বভাবকে শুধুমাত্র নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন না মিঠুন। তাঁর বক্তব্য, চারপাশের পরিস্থিতি যখন অস্থির বা বিশৃঙ্খল হয়ে ওঠে, তখন ক্ষোভ প্রকাশ করাটাও মানুষের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। অর্থাৎ, নানার রাগের পিছনেও নির্দিষ্ট কারণ থাকত বলে মনে করেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু।

অভিনয় থেকে সমাজসেবা বহু ক্ষেত্রেই নিজের আলাদা ছাপ রেখে গিয়েছেন নানা পাটেকর। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে শোকের আবহ গোটা চলচ্চিত্র মহলে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন