Aaj India Desk, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূলের বিভাজন ঘিরে এবার গুরুত্বপূর্ণ শুনানি। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) সহ ১০ ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূল বিধায়কের বিধায়কপদ নিয়ে বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর বিকেল ৩টেয় শুনানি করবেন বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু। সুপ্রিম কোর্টের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই এই শুনানি হচ্ছে।
স্পিকারের সামনে দুই শিবির
আগামীকাল শুনানি হবে স্পিকারের চেম্বারে। ঋতব্রত (Ritabrata Banerjee) শিবিরের কয়েকজন বিধায়ক সেখানে উপস্থিত থাকতে পারেন। তাঁদের আইনজীবীরাও শুনানিতে থাকবেন বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূলের মমতা-পন্থী শিবিরের প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ও উপস্থিত থাকার চেষ্টা করবেন। তিনি না থাকলে তাঁর আইনজীবী শুনানিতে সওয়াল করবেন বলে সূত্রের খবর।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই তৎপরতা
তৃণমূলের অন্দরে বিভাজনের পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee), অরূপ রায়, সন্দীপন সাহা-সহ ১০ বিধায়কের বিরুদ্ধে দলত্যাগ-বিরোধী আইনে বিধায়কপদ খারিজের আবেদন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। সেই মামলায় শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে দেয়, বিধায়কদের পদ থাকবে কি না, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ বিধানসভার স্পিকার। আদালত স্পিকারকে ৮ অক্টোবরের মধ্যে আবেদনটির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বলেছিল। সেই নির্দেশের পরই বৃহস্পতিবারের শুনানি ডাকা হয়েছে।
সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের অন্দরে বিভাজন প্রকাশ্যে আসে। উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একদল বিধায়ক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। পরবর্তীতে ওই শিবির প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিধায়ক সঙ্গে নিয়ে মূল তৃণমূলের নাম, প্রতীক এবং দলীয় তহবিলের উপর দাবি জানায়। বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনেও টানাপোড়েন তৈরি হয়। দুই শিবিরকে পৃথক নাম ও প্রতীক দেওয়া হয়। তবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের সময় বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু বিদেশে ছিলেন। কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলির স্পিকারদের সম্মেলনে যোগ দিতে তিনি কেপটাউনে গিয়েছিলেন। পরে আটলান্টা ও লন্ডন সফর করে কলকাতায় ফেরেন। ফিরে অসুস্থ হওয়ার পর এবার তিনি ৮ অক্টোবরের শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন। বৃহস্পতিবারের শুনানির পর ১০ বিধায়কের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পিকারের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সুপ্রিম কোর্টের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই সেই প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। ফলে বৃহস্পতিবারের শুনানির দিকে নজর রয়েছে দুই শিবিরের পাশাপাশি রাজ্য রাজনীতিরও।


