Aaj India Desk, মুর্শিদাবাদ : রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে ভোট লুট ও বুথ দখলের অভিযোগ তুলে সমস্ত বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানালেন মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী (Rabiul Alam Chowdhury)। এ নিয়ে রিটার্নিং অফিসারকে চিঠি দিয়েছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, একাধিক বুথে বিরোধী দলের এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে, ভোটারদের ভয় দেখানো হয়েছে এবং পুলিশি সহযোগিতায় ছাপ্পা ভোট হয়েছে।
রবিউল (Rabiul Alam Chowdhury) তাঁর চিঠিতে দাবি করেছেন, ৭০ নম্বর রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের সমস্ত বুথেই ভোটের দিন অনিয়ম হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, সকাল থেকেই বিভিন্ন বুথের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয় এবং দলের পোলিং এজেন্টদের বুথে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় বা পরে বের করে দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, এই পরিস্থিতির কারণে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়। একাধিক ক্ষেত্রে ভোট দিতে গিয়ে ভোটারদের বলা হয়েছে, তাঁদের নামে ইতিমধ্যেই ভোট পড়ে গিয়েছে।
রবিউলের (Rabiul Alam Chowdhury) অভিযোগ, রেজিনগর বিধানসভার ১৪টি অঞ্চলের ৩১৫টি বুথে বিরোধী দলের এজেন্টদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোথাও বহিরাগতদের ঢুকিয়ে পুলিশি সহযোগিতায় ছাপ্পা ভোট করানোর অভিযোগও তুলেছেন তিনি। রবিউলের বক্তব্য, দিনের শুরুতে বেগুনবাড়ি অঞ্চলের কিছু বুথে ভোটাররা স্বাভাবিকভাবে ভোট দিতে পেরেছিলেন। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেখানে দলের এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয় বলে তাঁর অভিযোগ। সাধারণ ভোটারদেরও বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানি করা হয়েছে এবং ভোট দিতে দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন তৃণমূল প্রার্থী।
সমাজমাধ্যমে রবিউল লিখেছেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এমন পরিস্থিতি তিনি আগে দেখেননি। তাঁর দাবি, রেজিনগরের তিনবারের বিধায়ক হিসেবে তিনি অতীতেও উপনির্বাচনে লড়েছেন। কিন্তু এমন অভিজ্ঞতা হয়নি। বিজেপির বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে জয়ের চেষ্টা করার অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
রিটার্নিং অফিসারের কাছে রবিউল আবেদন করেন, রেজিনগরের সমস্ত বুথের ভোট বাতিল করে নতুন করে নির্বাচন করা হোক। অর্থাৎ, তাঁর দাবি মেনে নিলে পুরো বিধানসভা কেন্দ্রেই পুনর্নির্বাচন করতে হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে হুমায়ুন কবীরকে হারিয়ে প্রথমবার বিধায়ক হন রবিউল আলম চৌধুরী। পরে কংগ্রেস ও তৃণমূলের টিকিটে আরও দু’বার রেজিনগর থেকে বিধায়ক হন তিনি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে বেলডাঙা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। এবার রেজিনগর উপনির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন তিনি।


