মালদা: মাত্র চার সদস্য নিয়ে মালদা জেলা পরিষদ (Malda Zilla Parishad) দখল, আর তা ঘিরেই তুঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনা! মঙ্গলবার কড়া নিরাপত্তার মধ্যে মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি নির্বাচন। আর সেখানেই বড় রাজনৈতিক চমক। মাত্র চার সদস্যকে সঙ্গে নিয়েই জেলা পরিষদের বোর্ডের দায়িত্ব নিল বিজেপি। সভাধিপতি নির্বাচিত হলেন বিজেপির দীপালি বালা।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, চার সদস্য নিয়ে কীভাবে সম্ভব হল এই বোর্ড গঠন?
বিরোধীদের অভিযোগ, তৃণমূলের একাংশের সমর্থন নিয়েই মালদা জেলা পরিষদ (Malda Zilla Parishad) দখল করেছে বিজেপি। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর অব্যাহত।
নির্বাচনের আগের রাত থেকেই পরিস্থিতি ছিল উত্তপ্ত। মালদা টাউন স্টেশন চত্বর থেকে জেলা পরিষদের (Malda Zilla Parishad) চার সদস্যকে আটক করা হয় বলে অভিযোগ। খবর ছড়াতেই সেখানে পৌঁছে যান কংগ্রেস সাংসদ ঈশা খান চৌধুরী এবং মৌসম বেনজির নূর। তাঁদের অভিযোগ, সভাধিপতি নির্বাচনের আগে পরিকল্পনা করেই সদস্যদের আটক করা হয়েছে।
মৌসমের দাবি, পুলিশের সাহায্যে অনৈতিকভাবে বোর্ড গঠনের চেষ্টা হয়েছে। ঈশার অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সদস্যদের নিরাপদে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তার মধ্যে শুরু হয় নির্বাচন প্রক্রিয়া। আর শেষ পর্যন্ত বিজেপির দীপালি বালাই সভাধিপতি নির্বাচিত হন।
এই ঘটনার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসছে নদিয়া জেলা পরিষদের প্রসঙ্গ। সেখানেও মাত্র ছয় সদস্য নিয়ে ৫২ আসনের জেলা পরিষদ দখল করেছিল বিজেপি বলে অভিযোগ। তৃণমূলের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে বিজেপিকে সাহায্য করার অভিযোগ উঠেছিল এবং পরে তাঁদের বিরুদ্ধে দলীয় পদক্ষেপও করা হয়।
তাহলে কি নদিয়ার পর এবার মালদাতেও (Malda Zilla Parishad) একই ছবি? তৃণমূলের অন্দরের ফাটলই কি বিজেপির জেলা পরিষদ দখলের রাস্তা খুলে দিল?মাত্র চার সদস্যের শক্তিতে কীভাবে বদলে গেল মালদার জেলা পরিষদের ক্ষমতার সমীকরণ? এই প্রশ্নের উত্তর নিয়েই এখন তুঙ্গে রাজনৈতিক চাপানউতোর।


