27.3 C
Kolkata
Tuesday, October 6, 2026
spot_img

মশলার প্যাকেটে বিষ? বাজার থেকে ‘এভারেস্ট’ মশলা সরানোর নির্দেশ FSSAI-এর!

Aaj India Desk, কলকাতা : বাঙালির হেঁসেলে মশলা মানেই পরিচিত নাম এভারেস্ট। কিন্তু এবার সেই এভারেস্টের জিরে গুঁড়ো নিয়েই উঠল বড় প্রশ্ন! নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ মেলায় এভারেস্টের জিরে গুঁড়োর (Everest Cumin Powder) একটি নির্দিষ্ট ব্যাচকে ‘অনিরাপদ’ ঘোষণা করেছে ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ওই ব্যাচের সমস্ত পণ্য বাজার থেকে অবিলম্বে ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরীক্ষায় মিলল দুই কীটনাশক

খাদ্য নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গোয়ার রিভারসাইড রিসর্টস অ্যান্ড হলিডে হোমস প্রাইভেট লিমিটেডের চত্বর থেকে এভারেস্টের জিরে গুঁড়োর (Everest Cumin Powder) একটি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরীক্ষায় ওই নমুনায় অ্যাজক্সিস্ট্রোবিন এবং থায়ামেথক্সাম এই দুই কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ নির্ধারিত সর্বোচ্চ মাত্রার চেয়ে বেশি পাওয়া যায়। এরপর খাদ্য নিরাপত্তা আইনের অধীনে নমুনাটিকে ‘অনিরাপদ’ ঘোষণা করা হয়।

দ্বিতীয় পরীক্ষাতেও বদলাল না ফল

প্রাথমিক পরীক্ষার ফল নিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে আপিলের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। সেই অনুযায়ী নমুনাটি ফের পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। সেখানেও একই ফল পাওয়া যায়। দ্বিতীয় পরীক্ষাতেও দুই কীটনাশকের মাত্রা নির্ধারিত সীমার বেশি বলে নিশ্চিত হয়। ফলে প্রথম পরীক্ষার ফলই কার্যত বহাল থাকে।

কোন ব্যাচের জিরে গুঁড়ো?

নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশ অনুযায়ী, এভারেস্ট জিরে গুঁড়োর ই০৮০৬৬৮৭৬১ নম্বর ব্যাচ এই প্রত্যাহারের আওতায় রয়েছে। পরীক্ষার ফল নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট পুরো ব্যাচ বাজার থেকে অবিলম্বে ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংস্থাকে প্রত্যাহার করা পণ্যের সম্পূর্ণ হিসাব রাখতে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। (Everest Cumin Powder)

সব এভারেস্ট জিরে গুঁড়ো কি অনিরাপদ?

এই নির্দেশ শুধুমাত্র নির্দিষ্ট একটি ব্যাচের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বাজারে থাকা এভারেস্টের সমস্ত জিরে গুঁড়োকে অনিরাপদ ঘোষণা করা হয়নি। তাই বাড়িতে থাকা এভারেস্ট জিরে গুঁড়োর প্যাকেটটি ফেলে দেওয়ার আগে ব্যাচ নম্বর দেখে নেওয়া জরুরি। সেটি যদি ই০৮০৬৬৮৭৬১ হয়, তাহলে ব্যবহার না করে সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রত্যাহার সংক্রান্ত নির্দেশ মেনে চলাই উচিত।

এভারেস্টের আরও কয়েকটি মশলা নিয়েও চলতি বছরে খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থার পরীক্ষায় নিয়ম না মানার বিষয় সামনে এসেছিল। হিং-এর ক্ষেত্রে নিম্নমানের অভিযোগে বিক্রিতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া এভারেস্টের ডিমের তরকারির মশলা, মুরগির মশলা এবং গরম মশলার ক্ষেত্রেও নির্ধারিত মান না মানার বিষয় ধরা পড়েছিল। তবে ওই তিনটি পণ্যের বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি।

কিন্তু নির্দিষ্ট ব্যাচের জিরে গুঁড়ো সরানোর নির্দেশ আসতেই প্রশ্ন উঠছে। প্রতিদিনের রান্নায় যে মশলা ব্যবহার করা হচ্ছে, তার নিরাপত্তা নিয়ে কি এবারও সন্দিহান থাকতে হবে? খাদ্যপণ্যের মান ও নিরাপত্তা নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারি যতই বাড়ুক, সাধারণ মানুষের ভরসা বজায় রাখতে প্রয়োজন আরও কঠোর পরীক্ষা, স্বচ্ছ তথ্য এবং দ্রুত পদক্ষেপ।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন