কলকাতা: পাঁচ বছর কেটে গিয়েছে,সরকার বদলে গিয়েছে! কিন্তু নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের ঠিক আগে নতুন করে চর্চায় মমতা বন্দোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সেই ‘পা ভাঙা’ কান্ড! উপনির্বাচনের আগে পুরনো সেই ঘটনা নিয়েই ফের মুখোমুখি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। আর এবার লড়াই আরও এক ধাপ চড়ল!
দিন কয়েক আগেই ২০২১ সালের নন্দীগ্রাম-কাণ্ডে মমতার পা ভাঙার দাবি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু। শুধু প্রশ্ন তোলাই নয়, প্রকাশ্যে আনেন বেশ কিছু পুরনো মেডিক্যাল রিপোর্ট। তাঁর দাবি, পা ভাঙার ঘটনা নিয়ে মিথ্যা বলে ভোটের সময় রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল।
সেখান থেকেই শুরু নতুন বিতর্ক। সোমবার মমতার (Mamata Banerjee) আইনজীবী অর্ক নাগ সরাসরি চিঠি পাঠান এসএসকেএমের ডিরেক্টর, সুপার ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রধানকে। প্রশ্ন একটাই, কার অনুমতিতে, কোন নিয়মে একজনের মেডিক্যাল রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনা হল?
এই আইনি প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে এবার আরও আক্রমণাত্মক শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)। সোমবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে মমতাকে উদ্দেশ্য করে তাঁর বার্তা, “ঘাঁটাঘাঁটি কম করুন।” তারপরই এমন মন্তব্য, যা নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে চর্চা, “এক্স-রে প্লেট, এমআরআই রিপোর্ট দেখাতে শুরু করলে বাড়ি থেকে বেরতে পারবেন না।”
কোথা থেকে পেলেন সেই নথি? প্রশ্ন উঠতেই শুভেন্দুর দাবি, ২০২১ সালের ঘটনায় মমতার (Mamata Banerjee) করা মামলার তদন্ত করেছিল সিআইডি। বিজেপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধেও এফআইআর হয়েছিল। প্রয়োজন হলে নথির উৎসও তিনি জানাবেন বলে দাবি করেন।
এরপর আরও বিস্ফোরক দাবি শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari)। তাঁর বক্তব্য, নথিগুলি ‘পিজি’-তে থাকার কথা নয়। তাঁর দাবি, আগের সরকারের আমলে বহু কাগজপত্র বিভিন্ন জায়গায় থেকে গিয়েছিল, সব নথি নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। এখন প্রশ্ন হল, মমতার আইনজীবীর আইনি চিঠির পর কি আরও নথি সামনে আনবেন শুভেন্দু? আর সত্যিই যদি সেই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসে, তাহলে নন্দীগ্রামের পুরনো কাহিনিতে কি নতুন কোনও মোড় আসবে? রাজ্য রাজনীতির নজর এখন সেদিকেই।


