Aaj India Desk, কলকাতা : দল ভাঙছে, একের পর এক চেনা পরিচিত মুখ বদলাচ্ছে শিবির, আর তার মাঝেই হঠাৎ ১৫ দিনের সময়সীমা! ইসলামপুরের সভা থেকে এমনই এক বার্তা সামনে এল, যা ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা। যাঁরা দল ছেড়ে চলে গিয়েছেন, তাঁদেরই কি ফেরার পথ দেখালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)?
ইসলামপুরের কমলাগাঁও-সুজালি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় তৃণমূলের সাংগঠনিক সভায় মমতার (Mamata Banerjee) বার্তা শোনান তৃনমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে মমতার বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘‘বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে হলে আমাদের শক্তিশালী করুন। যাঁদের আপনারা কষ্ট করে জিতিয়েছেন, তাঁদের টাকা দিয়ে কিনে নিয়েছে।’’ এর পরেই দল ছেড়ে যাওয়া নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে মমতার বার্তা দেন তিনি। তিনি বলেন, ‘‘যাঁরা ফিরতে চান, তাঁদেরকে বলব ১৫ দিনের মধ্যে ফিরে আসতে হবে। যদি না পারেন, আমরা লড়ে নেব।’’
বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের একাধিক নেতা ও জনপ্রতিনিধি দল ছেড়েছেন বা ভিন্ন শিবিরে গিয়েছেন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, মদন মিত্র, ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং অরূপ রায়-সহ একাধিক বিশ্বাসভাজন নেতা নেত্রীরা মমতার সঙ্গে ছেড়েছেন। সোমবার রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকও। এই পরিস্থিতিতে মমতার ‘১৫ দিনের’ বার্তাকে দলছুটদের ঘরে ফেরানোর উদ্যোগ হিসেবে দেখছে তৃণমূলের একাংশ।
রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূলের একাধিক নেতা-সাংসদ-বিধায়কের দলবদল নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনা রয়েছে। তার মধ্যেই মমতার এই বার্তা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। দলছুটদের জন্য কি ফেরার দরজা খুলে দিতে চাইছে তৃণমূল নেতৃত্ব? তবে ১৫ দিনের সময়সীমা কারা মেনে দলে ফিরবেন বা তাঁদের জন্য দলের নির্দিষ্ট কোনও প্রক্রিয়া থাকবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে মমতার এই বার্তা আগামী দিনে দলীয় রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, সেদিকেই নজর থাকবে।


