Aaj India Desk, কলকাতা: দুর্গাপুজোর ভুয়ো টিকিট, (FakeTicket) পাস বিক্রির অভিযোগের পর এবার নজরুল মহোৎসবের খরচ নিয়েও বিতর্কে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন (Indranil Sen)। অভিযোগ উঠেছে, ২০২৫ সালে কলকাতার শিশির মঞ্চে নজরুল মহোৎসব আয়োজন করতে খরচ হয়েছিল প্রায় ৩৭ লক্ষ ৯২ হাজার ৫৩ টাকা। সেই সময় রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের দায়িত্বে ছিলেন ইন্দ্রনীল সেন। অন্যদিকে, চলতি বছরে একই ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করতে খরচ হয়েছে ১ লক্ষ ৪৪ হাজার ৪০০ টাকা। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে খরচের এই বিপুল পার্থক্য নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গিয়েছে, এই বিষয়কে কেন্দ্র করে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জমা পড়েছে। অভিযোগের নিশানায় শুধু প্রাক্তন মন্ত্রী নন, দফতরের কয়েকজন আধিকারিকও রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে শিশির মঞ্চের আধিকারিক তপন তরফদারের নামও রয়েছে।অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, পরিবারের একাধিক সদস্যকে চাকরি পাইয়ে দিতে তপন তরফদার প্রভাব খাটিয়েছিলেন। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে ইন্দ্রনীল সেনের সংস্থাকে ঘিরে দুর্গাপুজোর পুজো পরিক্রমার নামে ‘ভুয়ো পাস’ বিক্রি এবং UNESCO-র নাম ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছিল। তৃণমূল সরকারের সময়ে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের বিভিন্ন লেনদেনেও অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রী মধুচন্দ্রা সেনের বিরুদ্ধে দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে বেআইনি ব্যবসার অভিযোগও করা হয়েছে।
এদিকে, আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে ইন্দ্রনীল সেনের মালিকানাধীন ‘Octave Records’-এর একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা ব্যাঙ্কিং চ্যানেলের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছিল বলে জানিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। এই দাবি ইডির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুধু পুজোর প্রিভিউ শো নয়, ইন্দ্রনীল সেন মন্ত্রী থাকাকালীন পর্যটন ও সংস্কৃতি দফতরের ৮৫ কোটিরও বেশি টাকার একাধিক টেন্ডার নিয়েও তদন্ত করছে ইডি। কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবি, ওই টেন্ডারগুলি ধ্রুবজ্যোতি বসু এবং দীপেশ রায়ের মালিকানাধীন সংস্থাগুলিকে দেওয়া হয়েছিল। তদন্তে তাঁরা ইন্দ্রনীল সেনের ঘনিষ্ঠ বলে উঠে এসেছে বলে দাবি ইডির।
এখন কলকাতার ২৪টি নির্বাচিত পুজোমণ্ডপে আয়োজিত প্রিভিউ শো-এর টিকিট বিক্রির তথ্যও খতিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও তদন্তের আওতায় রয়েছে।


