Aaj India Desk, পূর্ব মেদিনীপুর: নন্দীগ্রামে ভোটের লড়াই পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই সামনে এল আরও এক বিস্ফোরক দাবি। জেল থেকে বেরিয়েই পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুললেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান (Milan Pradhan)। তাঁর দাবি, মনোনয়ন প্রত্যাহার করার জন্য তাঁকে চাপ দেওয়া হয়েছিল। এমনকি পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছিল যে, তাঁর মনে হয়েছিল ‘এনকাউন্টার’ও হয়ে যেতে পারে।
‘চোখ বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল’
বুধবার হলদিয়া জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পরই একের পর এক অভিযোগ তোলেন মিলন প্রধান (Milan Pradhan)। তাঁর দাবি, পুলিশ তাঁকে মনোনয়ন প্রত্যাহারের জন্য চাপ দিচ্ছিল। শুধু তাই নয়, তাঁকে চোখ বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। মিলনের কথায়, “পুলিশ আমাকে মনোনয়ন প্রত্যাহারের জন্য চাপ দিচ্ছিল। আমার মনে হয়েছিল, এনকাউন্টার করে দিতে পারে।” তবে পুলিশের তরফে এই অভিযোগের কোনও প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর বক্তব্যকে অভিযোগ হিসেবেই উপস্থাপন করা হচ্ছে।
জেল থেকে বেরিয়েই ভোটের ময়দানে
মুক্তির পরই নির্বাচনী প্রচারে নামার কথা জানিয়েছেন নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী। তাঁর দাবি, কোনও মামলাতেই তাঁকে থামিয়ে রাখা যাবে না। নন্দীগ্রামে পুজো দিয়ে প্রচার শুরু করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। মিলন (Milan Pradhan) বলেন, মিথ্যা মামলা দিয়ে তাঁকে আটকানো যাবে না। তাঁর দাবি, মানুষ গোটা বিষয়টি বুঝেছেন এবং ভোটের বাক্সেই তার জবাব দেবেন।
২০০৭-এর মামলায় গ্রেফতার
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণার পরই ২০০৭ সালের আন্দোলন-সংক্রান্ত ছ’টি পুরনো মামলায় মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।মামলাগুলি প্রায় ১৯ বছরের পুরনো। কলকাতা হাই কোর্টে জামিনের আবেদন করে তিনি দাবি করেন, নির্বাচনে প্রচার চালানোর অধিকার থেকে তাঁকে বঞ্চিত করতেই গ্রেফতার করা হয়েছে।
হাই কোর্টে অন্তর্বর্তী জামিন
২৯ সেপ্টেম্বর কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চ মিলন প্রধানকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত অন্তর্বর্তী জামিন দেয়। ছ’টি মামলায় পৃথকভাবে ২০ হাজার টাকার বন্ড জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশ অনুযায়ী, ভোটের পর তাঁকে সংশ্লিষ্ট হলদিয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। পাশাপাশি তদন্তকারী আধিকারিকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার শর্তও রয়েছে।
হাই কোর্টের জামিনের নির্দেশের পরই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য সরকার। মিলন প্রধানের অন্তর্বর্তী জামিন বাতিলের আবেদন করা হয়। বুধবার জরুরি শুনানির আবেদন জানানো হলেও প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ তাৎক্ষণিক শুনানি নেয়নি। মামলাটি ৫ অক্টোবর শুনানির জন্য রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন ৬ অক্টোবর। তার ঠিক আগে জেল থেকে মিলন প্রধানের মুক্তি কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রচারে নতুন গতি এনেছে।একদিকে জামিনকে ঘিরে আইনি লড়াই, অন্যদিকে পুলিশের বিরুদ্ধে মিলনের একের পর এক অভিযোগে ভোটের আগে নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।


