Aaj India Desk, কলকাতা: ভবানীপুরের (Bhabanipur) ভোটের ফল কি শুধুই ফলাফল, নাকি এর পিছনে রয়েছে গণনা নিয়ে একাধিক অভিযোগ? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) দায়ের করা নির্বাচনী মামলাকে ঘিরে এবার আরও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছল আইনি লড়াই। ভোটে জয়ী বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এবার আদালতে নিজের লিখিত বক্তব্য পেশ করতে চলেছেন। মমতার তরফে ওঠা ভোটগ্রহণ ও গণনায় অনিয়মের অভিযোগের পাল্টা ব্যাখ্যাই থাকবে সেই জবাবে।
বৃহস্পতিবারের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ
মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) মামলার শুনানিতে বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্ত (Justice Gaurang Kanth) শুভেন্দু-পক্ষকে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে লিখিত প্রতিক্রিয়া জমা দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। এর আগে অতিরিক্ত সময় চেয়েছিলেন শুভেন্দুর আইনজীবী জয়দীপ কর (Jaydeep Kar)। সেই আবেদন মেনে আদালত তিন সপ্তাহ সময় দিয়েছিল। এবার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জবাব জমা দেওয়ার পালা।
কী অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের?
ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে ‘ইলেকশন পিটিশন’ দায়ের করেন তৎকালীন তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পক্ষের অভিযোগ, ভোটগ্রহণের পাশাপাশি গণনা পর্বেও গুরুতর অনিয়ম হয়েছিল।
বিশেষ করে গণনার দিন তৃণমূলের (Trinamool Congress) কাউন্টিং এজেন্টদের গণনাকেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারেরও দাবি করা হয়েছে। মমতা নিজে প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও গণনাকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারেননি বলেও আদালতে অভিযোগ জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ওই নির্বাচনে বিজেপি (BJP) প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী ১৫,১০৫ ভোটের ব্যবধানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছিলেন।
EVM থেকে CCTV, সংরক্ষিত ভোটের নথি
মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে ভবানীপুর নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি ও সরঞ্জাম সংরক্ষণের নির্দেশ আগেই দিয়েছে হাইকোর্ট। EVM, VVPAT এবং গণনাকেন্দ্রের CCTV ফুটেজ-সহ সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী সামগ্রী নিরাপদে রাখার নির্দেশ রয়েছে। ফলে পরবর্তী শুনানিতে এই নথিগুলির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
আদালতে উঠল নন্দীগ্রামের প্রসঙ্গ
ভবানীপুর মামলার শুনানিতে ফের সামনে এসেছে ২০২১ সালের নন্দীগ্রাম (Nandigram) বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ। মমতার পক্ষের আইনজীবী অভিযোগ করেন, নন্দীগ্রামে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে থাকা আধিকারিককেই পরবর্তীতে ভবানীপুরের নির্বাচনী দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
পাশাপাশি তৎকালীন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (Chief Electoral Officer) এবং পরবর্তী প্রশাসনিক দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। মঙ্গলবার প্রবীণ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee) অনুপস্থিত থাকায় মমতার হয়ে আদালতে সওয়াল করেন তাঁর আইনজীবী-পুত্র শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় (Shirshanya Banerjee)।
এখন অপেক্ষা শুভেন্দু অধিকারীর লিখিত জবাবের। মমতার তোলা অভিযোগের বিরুদ্ধে তাঁর পক্ষ থেকে কী যুক্তি দেওয়া হয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল ও আদালতপাড়ার।


