Aaj India Desk, কলকাতা: অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে একাধিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সোমবার পানিহাটিতে আয়োজিত ‘অঙ্গন মিলন সেবা’ অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে আইসিডিএস (ICDS) কেন্দ্র এবং অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের জন্য বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন (Nitin Nabin)।
অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের মাসিক ভাতা বাড়ল
মুখ্যমন্ত্রী জানান, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের মাসিক ভাতা অগাস্ট মাস থেকেই ৫ হাজার টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ আগের তুলনায় প্রতি মাসে অতিরিক্ত ৫ হাজার টাকা পাবেন কর্মীরা। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হয় অনুষ্ঠানে।
আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় কর্মীরা
শুধু মাসিক ভাতা নয়, স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের সুবিধা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। শুভেন্দু বলেন, আইসিডিএস কর্মীদের আয়ুষ্মান ভারত (Ayushman Bharat) প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে দেশের তালিকাভুক্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে ৩৮টি হাসপাতালে বছরে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনা খরচে চিকিৎসার সুবিধা পাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
শিশু ও মায়েদের খাবারে বরাদ্দ বৃদ্ধি
অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের মাধ্যমে শিশু এবং প্রসূতি মায়েদের পুষ্টির বিষয়টিও উঠে আসে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, শিশুদের খাবারের জন্য বরাদ্দ ২ টাকা বাড়িয়ে ৮ টাকা করা হয়েছে। একইভাবে প্রসূতি মায়েদের খাবারের বরাদ্দ ১২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪ টাকা করা হয়েছে।
এবার সব ICDS কেন্দ্রে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ
অনুষ্ঠানের অন্যতম বড় ঘোষণা ছিল অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির বিদ্যুৎ পরিষেবা নিয়ে। রাজ্যের সমস্ত আইসিডিএস কেন্দ্রে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এর ফলে কেন্দ্রগুলির নিয়মিত বিদ্যুৎ খরচের চাপ কমবে বলে সরকারের তরফে জানানো হয়েছে।
ভাড়া বাড়ি থেকে সরকারি ভবনে অঙ্গনওয়াড়ি
রাজ্যে এখনও প্রায় ১৯ হাজার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র ভাড়া করা বাড়িতে চলছে বলে জানান শুভেন্দু। ভবিষ্যতে এই কেন্দ্রগুলিকে সরকারি নিজস্ব ভবনে স্থানান্তরের পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান। এজন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীনও। শিশুদের জীবনের প্রাথমিক পর্যায়ে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের অবদানের কথা তুলে ধরে তাঁদের ‘প্রথম গুরু’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। সব মিলিয়ে, ভাতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসুরক্ষা, খাবারের বরাদ্দ, বিনামূল্যে বিদ্যুৎ এবং কেন্দ্রগুলির পরিকাঠামো উন্নয়ন অঙ্গনওয়াড়ি ব্যবস্থাকে ঘিরে একাধিক ঘোষণাই এদিনের অনুষ্ঠানে সামনে আসে।


