Aaj India Desk, কলকাতা: রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর দলের ভিতরে তৈরি হওয়া নানা সমীকরণ এবার আর চলবে না। ব্যক্তিগত স্বার্থ, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কিংবা সাংগঠনিক বিভাজনের বদলে দল ও সরকারের মধ্যে সমন্বয়ই হবে বিজেপির (BJP) মূল লক্ষ্য। পূর্ণাঙ্গ রাজ্য কমিটি গঠনের পর প্রথমবার বাংলায় এসে এমনই বার্তা দিলেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন (Nitin Nabin)।
রবিবার নিউ টাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে বিজেপির জনপ্রতিনিধি ও সাংগঠনিক পদাধিকারীদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন তিনি। উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari), রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসল (Sunil Bansal)। রাজ্য ও জেলা স্তরের একাধিক নেতা, বিভিন্ন মোর্চার সভাপতি, বিভাগীয় আহ্বায়ক, সাংসদ ও বিধায়করাও বৈঠকে ছিলেন।
‘সমান্তরাল’ সংগঠন নিয়ে সতর্কবার্তা
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর কয়েকটি জেলায় জনপ্রতিনিধি ও সাংগঠনিক নেতৃত্বের মধ্যে দূরত্ব নিয়ে দলের অন্দরে আলোচনা চলছিল। কোথাও কোথাও আলাদা করে সাংগঠনিক কার্যকলাপ চালানোর অভিযোগও উঠেছে। এবার সেই প্রবণতা বন্ধ করার বার্তা দিয়েছেন নিতিন নবীন। তাঁর বক্তব্য, ব্যক্তিগত সুবিধা পাওয়ার পর সংগঠনকে পিছনে ঠেলে দিলে তা বরদাস্ত করা হবে না।
একই সঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর দলের মধ্যে ঢুকে পড়া ‘বেনোজল’ নিয়েও সতর্ক করেছেন তিনি। অনৈতিক কার্যকলাপ বা দুর্নীতির অভিযোগের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে দলের ক্ষতি করছে এমন ব্যক্তিদের সরিয়ে দিতেও পিছপা না হওয়ার বার্তা রয়েছে।
পুজোকে ঘিরে জনসংযোগ, নজরে পুরভোট
দুর্গাপুজোর মরশুমকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিজেপি সভাপতি। তবে কোনও পুজো কমিটিতে জোর করে জায়গা নেওয়া যাবে না। কমিটি নিজে থেকে দায়িত্ব দিলে তবেই তা গ্রহণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুজোর সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছনোর কথা বলা হয়েছে।
বিধায়ক ও সাংসদদের নিয়মিত কার্যালয়ে বসতে এবং সেখানে কত মানুষ তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে আসছেন, তার হিসাব রাখতেও বলা হয়েছে। নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলতে আসা ব্যক্তিদের পরিচয় নিয়েও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সামনে একাধিক পুরসভার নির্বাচন। টিকিট বণ্টনে ব্যক্তিগত সুপারিশের বদলে শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে বৈঠকে সেই বার্তাও দেওয়া হয়েছে। ফলে পুরভোটের আগে সংগঠনের ভিত মজবুত করাই এখন বাংলার বিজেপির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য, তা স্পষ্ট করে দিলেন নিতিন নবীন।


